পাইলট সংকট : বিদেশগামীদের দুর্ভোগ চরমে

পাইলট সংকটের কারণে কাতার, দুবাই, ওমান ও সৌদি আরবগামী যাত্রীরা বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুযাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে বেশির ভাগ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের ৭-৮ ঘণ্টা, কোনোটি আরও বেশি বিলম্বে ছেড়েছে। বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট।
এজন্য পাইলটরা দায়ী করছেন বিমান ম্যানেজমেন্টকে আর ম্যানেজমেন্ট বলছেন, পাইলটদের আন্দোলনের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পাইলটদের সংগঠন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, তাদের অভিযোগ শনিবার বিমান প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, পাইলটদের দাবি একটি। কোভিড পূর্ববর্তী অর্থাৎ ২০১৯ সালের আগে যে বেতন পেতেন এখন সেই বেতন-ভাতা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় তারা নির্ধারিত ৭৫ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করবেন না। তিনি বলেন,আমরা কোনো আন্দোলন করছি না। তবে তিনি পাইলটদের এই সিদ্ধান্তের কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বসে গেছে বলে স্বীকার করেন।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, আমরা তো সব সময় সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। আমরা সমস্যা ক্রিয়েটর না, সমস্যা সলভার। যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছুই নেই। সিদ্ধান্তের মালিক তো আর আমি না। বিমান বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, বেতন সমন্বয় না করায় অধিকাংশ পাইলট মাসে ৭৫ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই না করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলেছেন, বারবার আন্দোলনের পরও বিমান ম্যানেজমেন্ট পাইলটদের দাবি পূরণ করছেন না। এ কারণে তারা মাসে ৭৫ ঘণ্টার বেশি ফ্লাইট এবং ৮ দিনের কম ডে-অফ নিচ্ছেন না।
পাইলটদের অভিযোগ করোনাভাইরাসের কারণে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ২০ থেকে ৫০ শতাংশ হারে বেতন কর্তনের যে সিদ্ধান্ত ছিল কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করেছে। কিন্তু ওভারসিস অ্যালাউন্স উড্ডয়ন ঘণ্টার আনুপাতিক হারে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটি এখনো বাতিল করেনি। ওভারসিস অ্যালাউন্স তাদের মূল বেতনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি উড্ডয়ন ঘণ্টার আনুপাতিক হারে বণ্টন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা করতে গিয়ে জুনিয়র পাইলটদের ৪৮ শতাংশ এবং সিনিয়র পাইলটদের মূল বেতনের ২২ শতাংশ কমে গেছে।










