টরন্টো উড়লো ‘মর্যাদা রক্ষার’ ৪ কোটি টাকার ফ্লাইট
কানাডার টরন্টোতে উদ্বোধনী ফ্লাইট শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। শনিবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের বিজি–৩০৫ ফ্লাইট ৭০ জন যাত্রী নিয়ে টরন্টোর উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইটটি টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় রোববার (২৭ মার্চ)সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে পৌঁছাবে। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের মাধ্যমে টরন্টো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩০৬ সোমবার টরন্টোর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে ফ্লাইটটির।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছিল, টরন্টোর এই পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ফ্লাইট মূলত ‘মর্যাদা রক্ষার ফ্লাইট’। এই ফ্লাইট পরিচালনা করতে বিমানের চার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। ঢাকা থেকে টরন্টো গন্তব্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর ধরে ঢাকা–টরন্টো সরাসরি ফ্লাইট চালুর কথা বলে আসছে। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২৬ মার্চ (গতকাল) এই ফ্লাইট শুরুর কথা সাংবাদিকদের জানান। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের আসন ২৯৮টি।
তবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই বিমান কর্তৃপক্ষ ওই ঘোষণা দেয়। বিমান সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও টরন্টোতে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ দিতে পারেনি তারা। বোর্ডিং সিস্টেম অটোমেশন প্রক্রিয়ার কাজও অসম্পূর্ণ। এসব প্রস্তুতি না থাকায় টরন্টো গন্তব্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করার জন্য জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা–টরন্টো উদ্বোধনী ফ্লাইট নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘কানাডার সঙ্গে একটা ফ্লাইট অপারেট করা আমাদের জন্য মর্যাদার বিষয়। আমরা চিন্তাভাবনা করেই ফ্লাইট অপারেট করছি।’
এদিকে, বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহেরা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশেষ মোনাজাত শেষে ফিতা কেটে ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা রুটে ফ্লাইটের শুভ উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশে অবস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশনের ট্রেড কমিশনার কামাল উদ্দিন এবং বিমানের পরিচালকরাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
-বিপ্লব










