বিশ্বজুড়ে শতাধিক বন্দরে ধর্মঘট পালিত


ঢাকাঃ বিশ্বজুড়ে শতাধিক বন্দরে ধর্মঘটবিশ্বের পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন বন্দর শ্রমিকরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রতিবাদ এবং বন্দর দিয়ে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।আন্তর্জাতিক এ কর্মসূচিতে ২৫টির বেশি শ্রমিক ইউনিয়ন অংশ নেয়।
‘আমরা যুদ্ধের জন্য কাজ করি না’—এ স্লোগানে আয়োজিত এ আন্দোলনে বন্দরকে সামরিক কাজে ব্যবহার না করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকরা উন্নত বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিও তোলেন।
ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বন্দরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেন, তুরস্ক, ভারত, জার্মানি, ডেনমার্ক ও সুইডেন। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানির হামবুর্গ, স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া, ফ্রান্সের লে আভর, ইতালির জেনোয়া, গ্রিসের পিরেয়াস, মরক্কোর ট্যাঞ্জিয়ার মেড এবং ভারতের নহভা শেভা।গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ধর্মঘটের কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ থাকে। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের সঙ্গে ফেরি চলাচলও ব্যাহত হয়। ফ্রান্সের মার্সেই ও লে আভরসহ কয়েকটি বন্দরে শ্রমিকরা এক দিনের ধর্মঘট পালন করেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দাবি, এ কর্মসূচির কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ৪০ শতাংশের বেশি পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য পরিবহন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ধর্মঘটে প্রকৃতপক্ষে কতটা বিঘ্ন ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, বাণিজ্যিক বন্দর ব্যবহার করে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাঠানো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বন্দরগুলোর সামরিকীকরণের বিরোধিতা করছেন তারা।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন অস্ত্র পরিবহন বন্ধ ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে একত্র হয়। শুরুতে ৫টি দেশের ২০টি বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়ন এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল। পরে গ্রিসের এথেন্স, ইতালির জেনোয়া ও তুরস্কের ইস্তানবুলে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। মরক্কো, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি দেশে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। ইতালির শ্রমিক ইউনিয়ন ইউএসবি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটেরও ডাক দেয়।
অস্ত্র সরবরাহের গতিপথ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নো হারবার ফর জেনোসাইড (এনএইচজি)’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের জন্য পাঠানো বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ৩১৫টি চালান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব চালান ২৯টি দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। ওই ৫৬টি বন্দরের সব ক’টিই শুক্রবারের (৩০ অক্টোবর) ধর্মঘটে অংশ নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনের এ কর্মসূচি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি না করলেও কিছু বন্দরে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও জট সৃষ্টি করতে পারে।




