
ঢাকাঃ ক্যাট আইল্যান্ড বা বিড়ালের দ্বীপ! আওশিমা ও তাশিরোজিমা নামক দুটি ছোট্ট দ্বীপ বিড়ালের জন্য বিখ্যাত। আওশিমা জাপানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী তাশিরোজিমা দ্বীপের অবস্থান।এ দ্বীপগুলোতে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এক একটি দ্বীপের আয়তন প্রায় দেড় কিলোমিটারের কাছাকাছি। স্থানীয়সহ পৃথিবীর মানুষের কাছে এ দ্বীপের প্রচলিত নাম হয়ে গেছে ‘ক্যাটস আইল্যান্ড’। আওশিমা আসলে একটি মৎস্যজীবীদের গ্রাম। মাছের অফুরন্ত সরবরাহই এখানে বিড়ালের এত বেশি বংশবৃদ্ধির কারণ।বিংশ শতাব্দীতে আওশিমা ও তাশিরোজিমার মতো দ্বীপগুলোতে যখন মানুষ মাছের ব্যবসা করত, তখন নৌকার জাল ইঁদুর থেকে বাঁচাতে বিড়াল আনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায়, কিন্তু বিড়ালগুলো বংশবৃদ্ধি করে দ্বীপে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। বিড়ালের অভয়ারণ্য দেখার জন্য দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক ভিড় করে দ্বীপগুলোতে।আওশিমা দ্বীপের বিড়াল বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। ২০১৮ সালে বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিড়ালগুলোকে নির্বীজকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পর থেকে সেখানে নতুন কোনো বিড়ালের বাচ্চা জন্ম নেয়নি। বর্তমানে দ্বীপে মাত্র কয়েকজন বয়স্ক মানুষ এবং অল্প কিছু বয়স্ক বিড়াল অবশিষ্ট রয়েছে।অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ওশিকা উপদ্বীপের তীরবর্তী ছোট্ট আরেকটি দ্বীপ তাশিরোজিমা। ১৯৫০ সালের দিকে তাশিরোজিমা দ্বীপে হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করত বলে জানা যায়। বর্তমানে দ্বীপের অধিবাসীর সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমে এসেছে, অথচ বিড়ালের সংখ্যা শতাধিক। এখানে একটি বিড়াল মন্দির এবং বিড়ালের আকৃতির সুন্দর কটেজ রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা রাত কাটাতে পারেন।স্থানীয়রা মনে করেন, বিড়াল হলো ভাগ্য ও ভালো ভবিষ্যতের প্রতীক! বিড়ালের নিরাপত্তার জন্য দ্বীপে কুকুর আনা নিষেধ। শুধু এই দুটিই নয়, জাপানে এমন আরও কয়েকটি বিড়ালের দ্বীপ রয়েছে।