ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী : ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে যাচ্ছে সারা দেশ। এ সময়টায় পর্যটকদের ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের।
পর্যটকদের ভ্রমণ উপভোগ্য করে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ। কুয়াকাটার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। সেখানকার পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের ধারণা, এবারের ঈদে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে কুয়াকাটায়।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, এখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। কুয়াকাটার এ সৈকতে আসতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের চেয়ে কম সময় লাগে। তাই ভ্রমণপিপাসুরা কুয়াকাটা সৈকত বেছে নিচ্ছেন।
আজ বুধবার (২০ মে) কুয়াকাটায় গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলো বাহারি সাজে সাজানো হচ্ছে। অনেক হোটেলের আসবাবে এসেছে নতুনত্বের ছাপ। হোটেল-মোটেলগুলোর সামনে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। দোকানিরাও দোকান সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁরা দোকানে নানাবিধ জিনিসের পসরা সাজাচ্ছেন।
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সৈকত এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জাল–নৌকা সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। দোকানপাটের ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নান্দনিক সৈকত উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা, জাল নৌকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া, আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট, খাবার হোটেল, অটোভ্যান, অটোরিকশা, মোটরবাইকের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয় বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।
এত দিন কুয়াকাটায় পর্যটকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা ছিল না। এ কারণে কুয়াকাটা থেকে আলীপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হতো। এবার সে ভোগান্তি লাঘবের জন্য তুলাতলী এলাকায় নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
কুয়াকাটায় ছোট-বড় দেড় শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসবে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা যাবে। অতিরিক্ত চাপ হলে হোটেলগুলোতে আরও ৫ হাজার পর্যটক গাদাগাদি করে রাত যাপন করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম হলে কমিউনিটি ট্যুরিজমের আওতায় আশপাশের বাসাবাড়িতে কিছু সংখ্যক পর্যটক থাকতে পারবেন।
কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের বরণের প্রস্তুতির বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সেবা দিতে পারতাম। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।’
কয়েক মাসজুড়ে হোটেল–মোটেলগুলো পর্যটকশূন্য ছিল উল্লেখ করে মোতালেব আরও বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটি রয়েছে বেশি। ঈদের দিন বিকেল থেকেই পর্যটকেরা আসতে শুরু করবে। আমরা ধারণা করছি, পর্যটকদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। তবে মাত্রাতিরিক্ত গরম পড়লে পর্যটক কম হবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে পর্যটকদের সংখ্যা বেশি হবে।’
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা অঞ্চলের ইনচার্জ হাসনাইন পারভেজ বলেন, বিপুলসংখ্যক পর্যটক উপস্থিতির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দলকে সার্বক্ষণিক এখানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। কুয়াকাটার আশপাশের প্রতিটি পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। এ ছাড়া সাদাপোশাকের পুলিশের টহল থাকবে।










