উপসাগরীয় দেশগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা চান প্রবাসীরা
ঢাকাঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আরবি ভাষায় দক্ষ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।বিশেষ করে রাষ্ট্রদূত, কনসাল জেনারেল ও শ্রম উইংয়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।প্রবাসীদের মতে, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় আরব আমিরাত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সমস্যার সমাধানও বিলম্বিত হচ্ছে।সাধারণ প্রবাসীরা জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম প্রধান মাধ্যম স্থানীয় ভাষা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক। মিশনগুলোতে নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের কারণে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো বুঝতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের গতি কমে যায়।তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় যারা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের চেয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পদ রক্ষায় বেশি মনোযোগী থাকেন। ফলে প্রবাসীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।বর্তমানে আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো ভিসা জটিলতা, ভিসা নবায়নে বিলম্ব, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ভিসা বন্ধ থাকা, চাকরি হারানো, আবাসিক অনুমতির (আকামা) সমস্যা এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।প্রবাসীদের দাবি, মিশনে পর্যাপ্ত আরবি ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তা বা দক্ষ অনুবাদক না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন, আদালত ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না।প্রবাসীরা সরকারের কাছে দুটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। প্রথমত, উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে পাঠানোর আগে বাধ্যতামূলকভাবে আরবি ভাষা ও স্থানীয় সংস্কৃতি বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।প্রবাসীদের আশা, তাদের এই দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও শ্রমবাজার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।