টানা ছুটিতে কক্সবাজারসহ পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটকের ঢল

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনের ছুটিসহ সাপ্তাহিক ছুটিতে পাহাড় প্রিয়দের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলা ও চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো|
ঢাকা থেকে বান্দরবানের নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে আসা পর্যটক জেসমীন বলেন, ‘বড়দিনের তিন দিনের ছুটিকে ঘিরে বান্দরবান ঘুরতে আসলাম। বান্দরবান না আসলে বুঝতাম না এত সুন্দর এই জেলা। পাহাড়ের গঠন দেখে সত্যি মুগ্ধ হচ্ছি আর সেই সঙ্গে ঝরনা আর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বসবাস দেখে নতুন শিক্ষা নিচ্ছি।’
হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এই ভিড় নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন মৌসুমের এ সময়ে কক্সবাজারের ডজনখানেক পাঁচ তারকা হোটেলসহ পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় হোটেল ও রিসোর্ট ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি হোটেল–মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। ছুটিকে সামনে রেখে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। সাধারণত পর্যটকরা জেলার আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝরনা, দেবতার পুকুর, হর্টিকালচার পার্ক, তৈদুছড়া ঝরনা, বিডিআর স্মৃতিসৌধ, মায়াবিনী লেক, শান্তিপুর অরণ্য কুঠির ইত্যাদি জায়গা দেখার জন্য খাগড়াছড়িতে আসেন।
বান্দরবান জেলা হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বান্দরবানে তিন দিনের বন্ধকে ঘিরে প্রচুর পর্যটক আগমন হচ্ছে আর পর্যটকদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে আমরা বান্দরবান জেলা হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা কাজ করে যাচ্ছি।’
এদিকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান ভ্রমণে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, বড়দিনের সঙ্গে নিয়মিত ছুটি যোগ হওয়ায় এবার পর্যটকের আগমন আগেভাগেই বেড়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, বহু চেষ্টা করেও নির্দিষ্ট সময়ে পছন্দের রুম পাননি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শুক্রবার নেমেছে ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ বছরের সর্বনিম্ন। চলমান শৈত্যপ্রবাহ আগামী ২–৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাত ও ভোরে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘সৈকতের পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
কুয়াশা ও ঠান্ডা সত্ত্বেও সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের পদচারণা কক্সবাজারকে উৎসবমুখর করে তুলেছে, যেখানে আনন্দের সঙ্গে মিলিত হয়েছে চ্যালেঞ্জও।
এদিকে, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির নীলাচল, নীলগিরি, সাজেক, কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
-B










