কোরিয়া ইমপোর্ট এক্সপোয় ৩২ বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান
ঢাকাঃ দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোরিয়া ইমপোর্ট এক্সপো ২০২৬’। এতে ৩২টি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশের রফতানি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।২৩-২৫ জুন সিউলের কোএক্স হল বি-তে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই)। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল।প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কোরিয়া ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (কেওআইএমএ)-এর চেয়ারম্যান ইয়ং-মি ইউন। এসময় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং দেশী-বিদেশী অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর কেওআইএমএর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি ভিআইপি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ দূতাবাসের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন।বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, কোরিয়ান আমদানিকারক, পরিবেশক এবং বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট সংস্থার অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রায় ২০০টি স্টলে খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, ভোক্তা পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প উপকরণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হয়।বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল এবং কেবিসিসিআই-এর সভাপতি শাহাব উদ্দিন খান। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: অ্যাডভান্সিং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট থ্রু স্ট্রং বাইলেটেরাল রিলেশন্স’ প্রতিপাদ্যে সাজানো এ প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়।প্রদর্শনীর ফাঁকে কেবিসিসিআই-এর প্রতিনিধিদল কেওআইএমএ-র চেয়ারম্যান ইয়ং-মি ইউনের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। তিন দিনে ১৫টিরও বেশি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কোরিয়ান ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া ৩২টি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ, প্রিমিয়াম চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা, পাট ও পরিবেশবান্ধব জৈব-বিয়োজ্য পণ্য, হস্তশিল্প, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার সমাধান এবং লজিস্টিকস সেবাসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)-এরও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল।প্রদর্শনী শেষে ২৬ জুন বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কেবিসিসিআই এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং কেওআইসিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত লি ইউন ইয়ং, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে বাংলাদেশের সম্মানসূচক কনসাল জেনারেল ডেভিড কিম উপস্থিত ছিলেন।