বাগডোগরায় ফ্লাইট বৃদ্ধি, চাঙ্গা পর্যটন খাত
ঢাকাঃ ভারতের উত্তরবঙ্গের আকাশপথের প্রাণকেন্দ্র বাগডোগরা বিমানবন্দর গত এক দশকে নজিরবিহীন উত্থানের সাক্ষী । যাত্রী সংখ্যা থেকে উড়োজাহাজ চলাচল ও পর্যটক বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহন থেকে আন্তর্জাতিক সংযোগ-সব ক্ষেত্রেই রেকর্ড বৃদ্ধির ছবি তুলে ধরল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ । আর সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতাতেই এবার ১৫৪৯ কোটি টাকার প্রকল্পে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক নতুন টার্মিনাল, যার লক্ষ্য বছরে এক কোটি যাত্রী পরিষেবা দেওয়া ।বিমানবন্দরের ডিরেক্টর নাভিদ নাজিম জানিয়েছেন, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে যেখানে বাগডোগরা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল করত, ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮৬০ এর গণ্ডি ছাড়িয়েছে ।একই সময়ে বার্ষিক যাত্রী সংখ্যা ১০.৬ লক্ষ থেকে লাফিয়ে পৌঁছেছে ৩৬.৫ লক্ষে । অর্থাৎ ১১ বছরে প্রায় সাড়ে তিনগুণ যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ সামগ্রিক উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যাও ১০ হাজার 1১২৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৩০ অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ ।শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, পণ্য পরিবহনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে । ২০১৪-১৫ সালে যেখানে ২ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহণ হত, বর্তমানে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৫২ মেট্রিক টনে । উত্তরবঙ্গের চা শিল্প, পর্যটন এবং বাণিজ্যের বিকাশে এই বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ।কৌশলগত দিক থেকেও বাগডোগরার গুরুত্ব অপরিসীম । শিলিগুড়ি করিডোর বা 'চিকেন নেক' এর কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দর উত্তরবঙ্গ, সিকিম ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের প্রধান আকাশপথের সংযোগস্থল । বর্তমানে এখান থেকে ভুটান ও থাইল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক গন্তব্যেও বিমান পরিষেবা চালু রয়েছে ।ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামলাতে পুরনো টার্মিনাল কার্যত সীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে । বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৮৪টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করে এবং গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন । সেই কারণেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ । বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রায় ৩৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।নাভিদ নাজিমের কথায়, "নতুন টার্মিনাল চালু হলে বাগডোগরা বিমানবন্দর উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও পর্যটন বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে । ভবিষ্যতে বছরে অন্তত এক কোটি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন বলেই আমরা আশা করছি ।"যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করার বার্তা দিতেই ১৬ জুন অর্থাৎ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে 'যাত্রী সুবিধা দিবস' । দিনভর ছিলো বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির, রক্তদান কর্মসূচি, দার্জিলিং চা পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিন আগত যাত্রীদের বিশেষ অভ্যর্থনা জানানো হয় । পাশাপাশি কর্মী ও যাত্রীরা সমবেত কণ্ঠে 'বন্দে মাতরম' গেয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ।উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাগডোগরা বিমানবন্দর এখন শুধু একটি পরিবহণ কেন্দ্র নয়, বরং এই অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠছে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।