পর্যটক বরণে সাজছে সেন্টমার্টিন


কক্সবাজারঃ দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আয়-রোজগার বাড়ার আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণের দুয়ার।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পর্যটন চালুর খবরে দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আয়-রোজগার বাড়ার আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের বরণ করে নিতে হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পর্যটক বরণে প্রস্তুতি
সবুজ ঘাসে ঘেরা রিসোর্ট, সামনে নীল সমুদ্র। সেন্টমার্টিন জেটি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দক্ষিণপাড়ায় সৈকতমুখী অরণ্য ইকো রিসোর্ট। দীর্ঘ বিরতি শেষে পর্যটকদের বরণ করে নিতে সেখানে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
শ্রমিকদের কেউ আঙিনা পরিষ্কার করছেন, কেউ গোছাচ্ছেন কক্ষ। শুধু এই রিসোর্ট নয়, পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও চলছে মেরামত ও সাজসজ্জা। পর্যটকদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে না
দ্বীপের ইকো রিসোর্টের পরিচালক ও পর্যটন ব্যবসায়ী খায়রুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর্যটন বন্ধ থাকায় রিসোর্টের কাঠের কাঠামো ও ছাউনি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রিসোর্টের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো এখন মেরামত করছি, যাতে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে পর্যটকদের বরণ করে নিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বছরে মাত্র ২-৩ মাসের পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়। কিন্তু গত ২ বছর ধরে রাত্রিযাপন বন্ধসহ পর্যটক সীমিত রাখায় আমরা পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছি। এরই মধ্যে বুকিংয়ের সাড়া পাচ্ছি।’
দ্বীপে বাড়ছে শ্রমিক নেওয়ার আবেদন
পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ করতে শ্রমিক নেওয়ার আবেদন বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ৩ শতাধিক আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাই করে এসব আবেদনের বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দ্বীপে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে।
জেটির পন্টুন নিয়ে উদ্বেগ
পর্যটন চালুর খবরে দ্বীপজুড়ে প্রস্তুতি চললেও জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পন্টুনের জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, পন্টুন মেরামত করা না হলে পর্যটকদের ওঠানামার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক-ব্যবসায়ী সমিতির দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহমান বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পর্যটকদের আগমন শুরু হলে দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে পারে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের ২ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।
কক্সবাজার জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৭কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরুর আগেই প্ল্যাটফর্মের কাজ শেষ করা হবে, যাতে পর্যটকদের ভোগান্তি না হয়।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক কামরুল হাসান বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের পলিথিনসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বহন না করতে নিরুৎসাহিত করা হবে।’










