ফ্লাইট ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্রে ফ্লাইদুবাইয়ের ২ পাইলট আটক


ঢাকাঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ফ্লাইদুবাইয়ের ২ মালদ্বীপের পাইলটকে আটক করা হয়েছে।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর ওই ২ পাইলটকে আটক করা হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত এগোচ্ছে। ওই ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হামলা থেকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার অভিযোগ উঠেছে ওমানের সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে।
তবে আটক ২ পাইলটের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, কিংবা কথিত ষড়যন্ত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ। মালদ্বীপ সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আটক ২ পাইলট সম্পর্কে যা জানা গেছে
মালদ্বীপের রাজধানী মালের সংবাদপত্রের বরাতে ভারতের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আটক ২ পাইলটের সঙ্গে অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামির কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের একই ভবনে বসবাসের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তাদের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পর্কের ধরন কিংবা এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত মালদ্বীপের ৬ জন পাইলটের মধ্যে আটক ২ জন রয়েছেন। তারা ওই এয়ারলাইনসে মালদ্বীপ থেকে নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ পাইলটদের মধ্যে ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশপথে কথিত হামলার ঘটনা
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। উড়োজাহাজটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭৪ জন ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আঘাত করেন এবং ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করার পাশাপাশি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ চালানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার হামলা প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে অন্য ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা ককপিটে প্রবেশ করে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। এর ফলে উড়োজাহাজটির পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২৯ বছর বয়সী হাম্মাম আল-হাম্মামি হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং ঘটনাটিকে একটি কথিত সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে আটক ২ মালদ্বীপের পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি এবং তাঁদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।










