সংসদে আজ দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট পেশ
ঢাকাঃ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর জীবনের প্রথম বাজেট। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বিএনপি সরকারেরও প্রথম বাজেট এটি।অর্থমন্ত্রীর চাওয়া বাজেটের সুফল এবার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো। এর অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বেড়ে হতে পারে দেড় লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্তত ৮ধরনের নতুন কর্মসূচি যুক্ত হচ্ছে। তিনি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে চান, মনোযোগ দিচ্ছেন সহজে ব্যবসা–বাণিজ্য করার পরিবেশ তৈরিতেও।অর্থমন্ত্রী চান ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’, যার প্রতিফলন তিনি বাজেটে দেখাবেন বলে কয়েকবারই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে তিনি ‘ডিরেগুলেশন’ করবেন অর্থাৎ যতটা সম্ভব সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনবেন।অর্থের টানাপোড়েনের মধ্যেও আগামী অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকতে পারে।প্রথমবারের মতো এবার সিটিজেনস বাজেট অর্থাৎ নাগরিকদের জন্য বাজেট বিষয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বাজেটকে সহজভাবে বোঝা যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেট এ থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী কয়েকবার বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।তিনি মনে করেন, বাজেট বড় হলে ব্যয় বাড়বে, যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এফবিসিসিআইয়ের পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী খোলামেলাই বলেছেন, অর্থনীতি যে জায়গায় আছে, ব্যয় বাড়িয়ে একে ওপরের দিকে না নিয়ে গেলে চলবে না।অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে এ হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে এবার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি।