ফিফা বিশ্বকাপ ২৩তম আসরের উদ্বোধন আজ


ঢাকাঃ ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আজ।
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক 'এস্তাদিও আজতেকা' (Estadio Azteca) স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠছে 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের ২৩ তম আসরের। তবে আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ মাঠে গড়াবে আগামীকাল রাত ১টায় শুক্রবার (১২ জুন বাংলাদেশ সময়)। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের চোখ এখন ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চের দিকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয় যৌথভাবে এবারের আসরের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানে আরও থাকবেন জে বালভিন এবং পপ ব্যান্ড মানার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা।
এবারের আসর শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ নয়, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৪টি এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই উৎসব।
নতুন ফরম্যাটের কারণে এবারের বিশ্বকাপ আগের যেকোনো আসরের চেয়ে আলাদা। ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ৪টি করে দল। গ্রুপপর্ব শেষে ১২ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা ৮টি দল। ফলে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অংশ নেবে মোট ৩২টি দল। এতে বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব বড় ফুটবল শক্তি। তবে এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ নতুন কয়েকটি দেশের অভিষেক। উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার ফুটবলে উন্নতির যে ধারা দেখা যাচ্ছিল, এই ২ দলের সাফল্য তারই প্রতিফলন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন মুখ থাকলেও অনুপস্থিত থাকবে কয়েকটি পরিচিত নাম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইতালির অনুপস্থিতি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া চিলি, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ওয়েলস ও সার্বিয়ার মতো দলও বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি। ফলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক পরিচিত সমর্থকগোষ্ঠী তাদের প্রিয় দলকে মাঠে দেখতে পাবে না।
এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, আটলান্টা, সিয়াটল ও হিউস্টনের মতো শহরগুলো বিশ্বকাপের উত্তাপে সরগরম হয়ে উঠবে। কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভার এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মনতেরেও অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই তারকার জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। প্রায় ২ দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে আসা এই ২ কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখার সম্ভাবনা সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি আবেগ তৈরি করেছে। তাই এবারের বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি দুই মহাতারকার সম্ভাব্য বিদায়ের গল্পও।
শিরোপার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগালও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তির ভারসাম্য অনেকটাই বদলে গেছে। তাই কাগজে-কলমে ফেভারিটদের পাশাপাশি কোনো উদীয়মান দল চমক দেখালেও তা অবাক করার মতো কিছু হবে না।
বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবল নয়, এটি আবেগ, স্বপ্ন, স্মৃতি এবং ইতিহাস তৈরির মঞ্চ। আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে উত্তর আমেরিকার মাঠগুলোতে। কোথাও জন্ম নেবে নতুন নায়ক, কোথাও হয়তো শেষবারের মতো বিদায় জানাবেন কোনো কিংবদন্তি। আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুক্রবার (১২ জুন)। অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনী বাঁশির, এরপরই শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহারণ।







