এয়ারবাস নিয়ে সিদ্ধান্ত ইইউর সঙ্গে অংশীদারিত্বের 'পরীক্ষা'


ঢাকাঃ এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স।
ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়ে একটি বার্তা যাবে। এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা এখনো চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপকে সম্পৃক্ত করতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে আপনার আগ্রহ রয়েছে, সেটি দেখাতে হবে। এ কারণেই এয়ারবাস গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এর তাৎপর্য হলো ইউরোপকে বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত একটি অংশীদার হিসেবে বেছে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা।’
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ৫০ শতাংশের বেশি ইউরোপে যায়। ফলে এ সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে।’
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো চাপিয়ে দেয়া সম্পর্কে বিশ্বাস করে না, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে ইউরোপ সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এয়ারবাস গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্বভেদে আলোচনার পর এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিমান বাংলাদেশের বহরে এয়ারবাস থাকাটা তাদের নিজেদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল। বিশ্বের বড় বড় উড়োজাহাজ সংস্থা দুই ধরনের উড়োজাহাজ তাদের বহরে রাখে। তাদের এয়ারবাসও থাকে, আবার বোয়িংও থাকে।’
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কাউকে কোনো একটি একক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটির সুবিধা তুলনা করে বেছে নেয়া যায়। যেমন এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছতে পারে এবং সেটি বোয়িং নয়, সেটি এয়ারবাস।
বিশ্বে শুধু এই একটি উড়োজাহাজ তা করতে সক্ষম। তাই অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।’
তিনি বলেন, ‘দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের কত শত উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। তাই বিমানের এ সিদ্ধান্তে কোনো সন্দেহ বা ভুল ছিল না। তারা জানতে পেরেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে যা সরবরাহ করা হবে। এটা তাদের বাণিজ্যিক বিষয়।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনো এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে। এ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।’
লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্সের বাংলাদেশ থেকে আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের একটি বিষয়। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চাই, তবে তা আরো ভারসাম্যপূর্ণভাবে করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘সব কোম্পানির জন্য, বিশেষ করে ফরাসি কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।’ এ বিষয়ে ফ্রান্সের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আরো ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ৬১টি অশুল্ক বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বাধা মোকাবেলা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সের আমদানিতে তৈরি পোশাকের আধিপত্যের বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাকি আমদানির মধ্যে রয়েছে বড় বড় চুক্তির আওতাধীন পণ্য, উড়োজাহাজ ও মহাকাশ শিল্পের পণ্য, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি এবং কয়েকটি বড় ফরাসি কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও কার্যক্রম।’
বাংলাদেশের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরো অনেক সুযোগ রয়েছে।’ বাংলাদেশী সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে আরো বেশি আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিক্যাব টকে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) সভাপতি এ কেএম মঈনুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, সংগঠনের সদস্য ও অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।










