ইউরোপের ৩২ দেশের ঋণ ছাড়ালো ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার


ঢাকাঃ ইউরোপের ৩২টি দেশের মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) নতুন রেকর্ড গড়েছে দেনার পরিমাণ।
সুদহার বেড়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ঋণের বোঝা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইআইএফ) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গ্লোবাল ডেট মনিটর প্রতিবেদনের ইউরোপ বিষয়ক সংস্করণে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে মোট ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ ছিল ইউরোপের দেশগুলোর। এ সময়ে অঞ্চলটির মোট ঋণ ও জিডিপি অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২৫ শতাংশে। অর্থাৎ ইউরোপের দেশগুলোর সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ মোট বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় সাড়ে ৩ গুণ।
দেশভিত্তিক হিসেবে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি ঋণ ফ্রান্সের। দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির ঋণ ১৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া জার্মানির ঋণ ১৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ও ইতালির ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
এরপর রয়েছে আর্থিক খাতের বাইরের কোম্পানিগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ ২৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি সরকারি ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ইউরোপের পরিবারগুলোর মোট ঋণ ১৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
ঋণের পাশাপাশি খরচও বাড়ছে ইউরোপের কয়েকটি দেশে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে ঋণ নেয়ার খরচ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের (সিডিএস) স্প্রেড ১০০ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। ২০১২ সালের শেষ দিকের পর এটি সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ইতালির ক্ষেত্রে এ হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ বেসিস পয়েন্টে।
সিডিএস হলো ঋণখেলাপির ঝুঁকির বিপরীতে সুরক্ষা কেনার একটি আর্থিক চুক্তি। কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে সাধারণত সিডিএসের খরচও বাড়ে। ফলে এ সূচকের বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট দেশের ঋণঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
আইআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজেট ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোর। একই সঙ্গে ঋণের সুদ বাড়ছে ও সরকারের হাতে আর্থিক সংকট মোকাবেলার সুযোগ কমে আসছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে সরকারি ঋণের পরিমাণ স্থিতিশীল রাখা কঠিন হইয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরো সতর্ক করে বলা হয়, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ইউরোপের আর্থিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালির মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় ঋণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব দেশের আর্থিক জটিলতা অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।










