ট্যুরিস্ট ট্রেনে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের হাতছানি
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন

রোমাঞ্চকর এক ভ্রমণের হাতছানি দিচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। কেনা হচ্ছে ৫৪টি বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট ট্রেন বা ট্যুরিস্ট কার।
এ ধরনের আধুনিক ট্রেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সংগ্রহে নেই। ফলে নতুন পথের জন্য আনতে যাওয়া সর্বাধুনিক ট্রেনে অসাধারণ ভ্রমণযাত্রা উপভোগ্য হয়ে উঠবে সবার কাছেই। ভ্রমণপিপাসুরা তাই মুখিয়ে আছেন এমন যাত্রার সারথি হতে। এ জন্য অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত দুই বছর। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৬৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশন পেরিয়ে দেশের খরস্রোতা কর্ণফুলীসহ ছয়টি নদীর ওপর দিয়ে কক্সবাজার পৌঁছবে ট্রেন। সাঙ্গু-ডলো-টঙ্কাবতী পেরিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যে প্রবেশ করতেই পাখির কিচিরমিচির শব্দের সঙ্গে দেখা মিলতে পারে হাতি-বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর।
অভয়ারণ্য পেরিয়ে মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের দুপাশে গর্জন গাছের সারি অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করবে। রামু রাবার বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য, মাতামুহুরী, বাঁকখালী নদীর চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য্য আর মায়াভরা সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে যাত্রীরা পৌঁছে যাবেন কক্সবাজার স্টেশনে। চট্টগ্রাম থেকে আড়াই ঘণ্টার যাত্রা কখন যে শেষ হয়ে যাবে, টেরই পাওয়া যাবে না।
প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন সংরক্ষিত তিনটি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য- চুনতি, ফাঁসিয়াখালী ও মেধা কচ্ছপিয়ার মধ্য দিয়ে অসংখ্য পাহাড়-টিলা চোখে পড়বে। সবুজের সমারোহ, বিস্তীর্ণ মাঠ, শতবর্ষী গর্জন গাছ মুগ্ধ করবে যাত্রীদের। চোখে পড়বে বন্যপ্রাণী চলাচল। পাহাড়-নদী-লেক এবং বিকালে হাতি, বনমোরগ, সাপের দেখা মেলে ওইসব এলাকায়। এক কথায় বৈচিত্র্যময় নৈসর্গিক দৃশ্য যাত্রীদের মুগ্ধ করবে।’
জানা গেছে, দোহাজারী-কক্সবাজার ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্প ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদনের পর কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ। বিলাসবহুল ৫৪টি মিটার গেজ (এমজি) ট্যুরিস্ট কার কেনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই। কিন্তু অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়া এবং এমজি কোচ কেনায় নিরুৎসাহিত করায় প্রকল্পটি তখন থমকে যায়।
রেললাইনের কাজ এগিয়ে চলায় কোচ সংকটে যাত্রা শুরু বিলম্ব হতে পারে- এমন আশঙ্কায় ফের প্রকল্পটি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। বিদেশি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (পিডিপিপি) পাঠানোর নির্দেশ দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ‘কক্সবাজারগামী পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ট্যুরিস্ট ট্রেন পরিচালনায় ৫৪টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহ’ প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। ৫৭ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ডিপিপি পাঠানো হবে।
৫৪ কোচের মধ্যে রয়েছে- ছয়টি ট্যুরিস্ট কার (সিটি), ১৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার (ডব্লিউজেসি), শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১১টি প্রিমিয়াম চেয়ার কোচ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ১১টি, সাতটি পাওয়ার কার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৬টি ডাইনিং কার ও গার্ড ব্রেক। ভেসটিবিউল কোচ হওয়ায় যাত্রীরা পুরো ট্রেনেই যাতায়াত করতে পারবেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত পরিবার বা বন্ধুরা মিলে ট্যুরিস্ট কারের পুরো কোচ ভাড়া নিতে হবে। এতে একটি বড় বেডরুম, একপাশে কনফারেন্স ও অন্যপাশে ডাইনিং রুম এবং দুটি কিচেন রুম থাকবে। নিজেদের ইচ্ছেমতো খাবার তৈরি করে খাওয়ার সব সুবিধা রয়েছে। বগিটি যুক্ত করা হবে ট্রেনের পেছনে। ফলে ভ্রমণের সময় দুপাশের পাশাপাশি পেছনের সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৩ সালে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে ৬৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতে জোর চেষ্টা চলছে।’
-B










