পর্যটক টানতে সুন্দরবনে বাড়ছে ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র

সমুদ্র উপকূলবর্তী পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে পর্যটক টানতে বাড়ানো হচ্ছে নতুন নতুন ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ কাজও শেষ হয়েছে।
সুন্দরবনকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং এখানকার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন চারটি সুন্দরবন ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র। একইসঙ্গে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাজ করা হবে। ‘সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকোট্যুরিজম সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা। এ জন্য সাড়ে ৬ হাজার বর্গমিটারের একটি আরসিসি ফুট ট্রেইল, একটি ইন্টারপ্রিটেশন ও ইনফরমেশন সেন্টার, সাতটি স্যুভেনির শপ নির্মাণ করা হবে।
বন কর্মকর্তা, কর্মচারী, ইকো-ট্যুর অপারেটর, গাইড কো ম্যানেজমেন্ট কমিটির ৬০০ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিলি করা হবে লিফলেট। যোগ করেন আমির হোসাইন চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন, বনের ভেতর দিয়ে পর্যটকদের অবাধ যাতায়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বনের সার্বিক পরিবেশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় বনের সৌন্দর্য অবলোকনে নিরিবিলি পরিবেশ সৃষ্টি ও বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করে পরিবশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে বন বিভাগ নতুন ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
এখানে বন্যপ্রাণী আর নানা জাতের বৃক্ষরাজি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আধুনিক পদ্ধতিতে নির্মাণ হচ্ছে মনোমুগ্ধকর স্থাপনা। উন্নত যোগাযোগ আর নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করতে পারলে ইকো ট্যুরিজমে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। বাড়বে রাজস্ব বলেও তিনি জানান।
এদিকে, নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হওয়ায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও নতুন আশার আলো দেখছেন। তারা বলছেন, নতুন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে। পর্যটক বা দর্শনার্থীরা খুব সহজে অল্প সময়ে বনের গহীনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
সুন্দরবন ট্যুরস লাইভের সত্বাধিকারী গোলাম রহমান বিটু বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক বাড়াতে নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। এটি করা খুবই প্রয়োজন। তাহলে পর্যটন খাত থেকে সরকার বড় রাজস্ব পাবে বলে মনে করেন তিনি।
খুলনার রূপসী বাংলা ট্যুরিজমের সত্ত্বাধিকারী কাজী মনজুর-উল-আলম বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক কেন্দ্র বাড়ায় পর্যটকদের বন দেখার আরো সুযোগ বাড়ছে। বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণের মধ্যে নিরিবিলি পরিবেশে বনের সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ সৃষ্টি হবে নতুন পর্যটন কেন্দ্রে। এতে পর্যটক যেমন বাড়বে তেমনি আমাদেরও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। সরকারের বাড়বে রাজস্ব।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার বলেন, ভবিষ্যতে সুন্দরবনে ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন করার জন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সে আলোকে আমরা সুন্দরবনে যে সাতটি ইকো ট্যুরিজম রয়েছে (করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, হিরন পয়েন্ট ও কলাগাছী) সেখানে মূলত ট্যুরিস্টরা যান।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই রেঞ্জের আন্দারমানিক, শরণ খোলা উপজেলার আলীবান্দাতে ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র হচ্ছে। খুলনা জেলার শেখের টেকে যেখানে একটি প্রাচীন মন্দির আছে। সেখানে অনেক পর্যটক যাচ্ছেন। কিন্তু অবকাঠামগত সুবিধা না থাকায় অনেকে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও যেতে পারছেন না। সেখানে একটি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র তৈরি করার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া দাকোপের কালাবগিতে আরও একটি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।
-B










