শাহজালালে তেল সরবরাহ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে

পাইপলাইনের মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে। ১৮৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৪ টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি হয়ে ২৬৪ কোটি ৬২ লাখ ৬ হাজার টাকার প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৮১ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্ব অর্থায়নে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ‘জেট এ-১ পাইপলাইন ফ্রম পিতলগঞ্জ (নিয়ার কাঞ্চন ব্রিজ) টু কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো (কেএডি) ইনক্লুডিং পাম্পিং ফ্যাসিলিটিজ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (২০২১ সালের সর্বশেষ সংশোধনী)’এর আওতায় গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্প ব্যয় ৩৩৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিপিসি এ প্রকল্পের ঠিকাদারের ব্যয় বৃদ্ধিসহ চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) ঠিকাদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সাথে ১৮৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৪ টাকায় (ভ্যাট/ট্যাক্সসহ) টার্ণকী ভিত্তিতে গত ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নৌ-কল্যাণ ফাউন্ডেশন ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড (এনকেএফটিসিএল), বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
এ সম্পর্কিত এক কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর এনকেএফটিসিএল চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ১৯ কোটি ২১ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৮ টাকার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করে।
ইপিসি ঠিকাদারের ব্যয় বাড়ানোসংক্রান্ত যৌক্তিকতা নিরূপণের জন্য বিপিসি একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি এনকেএফটিসিএল কর্তৃক চুক্তি মূল্যের অতিরিক্ত ১৯৮ কোটি ২২ লাখ টাকার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত হওয়ায় তা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে সভায় মতামত দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, কমিটির সুপারিশ করা ৮১ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৮ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির কারণগুলোর মধ্যে ক্রয় করা/ক্রয়তব্য যন্ত্রপাতি ও মালামালের প্রকৃত ক্রয়মূল্যের কারণ, পিডব্লিউডির রেট সিডিউল-২০১৮ কে বিবেচনায় নেয়া, রাজউক, এলজিইডি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর (প্রধানমন্ত্রী) অনুমোদনও নেয়া হয়েছে।
-B










