গ্যাস সংকটে ভারতে হোটেল–রেস্তোরাঁ শিল্প বিপাকে

ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প।
ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে দেশজুড়ে লাখ লাখ খাবারের দোকান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা পর্যটন, সেবা খাত ও দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে সরকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ও এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতিমধ্যে, ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ রুপি এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১১৫ রুপি বাড়ানো হলেও অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এলএনজি ও এলপিজির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত ও এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা এলপিজি থেকে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রেস্তোরাঁ ও হোটেলে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলোর (ওএমসি) একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মজুদদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে ২৫ দিনের ‘আন্তঃবুকিং’ ব্যবস্থাও চালু করেছে সরকার।
অন্যদিকে, সার কারখানা ও চা শিল্পকে তাদের চাহিদার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ আংশিক বা পুরোপুরি কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইতোমধ্যে সিরামিক ও টাইলস শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের হোটেল মালিকদের সংগঠন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মুম্বাইয়ে বাণিজ্যিক এলপিজি সংকটের কারণে প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আংশিকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং অনেক জায়গায় মেনু ছোট করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বে এলএনজির চতুর্থ বৃহত্তম ক্রেতা এবং এলপিজির দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক। এই গ্যাসের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে ওই অঞ্চলে সংঘাত বা জ্বালানি পরিবহন রুটে বিঘ্ন ঘটলে ভারতের জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘ হলে তা শুধু হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প নয়, পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
-B










