প্রথমবারের মতো শাহ আমানতে আইকাওর নিরাপত্তা অডিট


চট্টগ্রামঃ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের অডিট দল চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইকাও’র তত্ত্বাবধানে শাহ আমানত বিমানবন্দরে এ ধরনের নিরাপত্তা অডিট এবারই প্রথম।
সংস্থাটির ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচের (ইউএসএপি-সিএমএ) আওতায় এ নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালন, তল্লাশির সরঞ্জাম পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী ও মালামাল তল্লাশি, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধের সক্ষমতাও মূল্যায়নের আওতায় আসবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই নিরাপত্তা অডিট কার্যক্রম আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে (বিজি-৬১৫) আন্তর্জাতিক অডিট দলটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দর পরিচালকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান।
আইকাও-এর ‘ইউ সার্বিক নিরাপত্তা অডিট প্রোগ্রাম-কনটিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)’ এর আওতায় ৪ সদস্যের এই বিশেষ পরিদর্শক দল গঠন করা হয়েছে।
অডিট দলে স্থান পাওয়া প্রতিনিধিরা হলেন-ক্যালাম ভাইন, আলেসান্দ্রা জোহানা অ্যারেনাস, শেখ আবদুল্লাহ বিন আব সুকর এবং পিএ জয়কণ্ঠ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৪ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক অডিটের সময় বিমানবন্দরে যাত্রী ও কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা, রানওয়ে ও এপ্রোন এলাকার পরিচালনা ব্যবস্থা, জরুরি মোকাবেলা প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার সার্বিক চিত্র মূল্যায়ন করা হবে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এ ধরনের সার্বিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষা এটাই প্রথম।
বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নুর হোসেন জানান, অডিট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার একাধিক বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রী ও হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি, চেক-ইন করা ব্যাগেজের নিরাপত্তা, কার্গো ও ডাক পরিবহনের নিরাপত্তা, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং উড়োজাহাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের ব্যবস্থা।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা, নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিদর্শন এবং কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেসব বিষয়ও নিরীক্ষার আওতায় আসবে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কারা প্রবেশ করছেন, কর্মী ও যানবাহনের পরিচয় যাচাই কীভাবে হচ্ছে, উড়োজাহাজের আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা রয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে– এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসবে।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা বা আইকাও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। ১৯৪৪ সালের ৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক কনভেনশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংস্থাটির ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৪৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে আইকাও। এর সদর দপ্তর কানাডার মন্ট্রিয়লে। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্যরাষ্ট্র ১৯৩টি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশপথ ও বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের আওতায় আনাই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য। উড়োজাহাজ পরিচালনা, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নির্দেশনা তৈরি করে আইকাও। সংস্থাটির কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সদস্যরাষ্ট্রগুলো এসব মানদণ্ড কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা। কোনো দেশে নিরাপত্তা বা তদারকির দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধনের পরামর্শ দেয় আইকাও।










