৮০০ বছর নামাজ নেই, তবু বিশ্ব ঐতিহ্যের গৌরব

ঢাকাঃ স্প্যানিশ ভাষায় মসজিদকে বলা হয় মেজিকিতা। দ্য গ্রেট মসজিদ অব কর্ডোভা। স্পেনের কর্ডোভা শহরে অবস্থিত এ মসজিদ। ইসলামি ইতিহাসে এ জায়গার নাম ছিল আন্দালুসিয়া।
৭১১ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এর শাসনামলে সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিমরা স্পেন জয় করে। সেই সময় কর্ডোভার সেন্ট ভিনসেন্ট গির্জার অর্ধেক অংশে একটি মসজিদ স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ এ আব্দুর রহমান আদ দাখিল স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কর্ডোভা জয় করে সেখানে তার রাজধানী স্থাপন করেন।
এই সময় মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তিনি গির্জার অংশ ১ লাখ দিনারে কিনে একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ৭৮৬ সালে মসজিদের কাজ শেষ হয়। নির্মাণ কাজে ৮০ হাজার দিনার ব্যয় করা হয়। সময় লেগেছিল ১ বছর। পরবর্তীতে অন্যান্য আমিরদের সময়ে এই মসজিদের নানা রকম সংস্কার ও সম্প্রসারণ ঘটে।
৯২৯ সালে স্পেনে উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন খলিফা ৩য় আব্দুর রহমান। এই সময়ে মুসলিম জাহানে ৩ জন খলিফার অস্তিত্ব ছিল। আব্বাসীয়, ফাতেমীয় ও স্পেনের উমাইয়া খলিফা। স্পেনের উমাইয়া খিলাফত ১০৩১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল।
উমাইয়া আমলে কর্ডোভা নগরী হয়ে উঠেছিল ইউরোপের বাতিঘর। মর্যাদার দিক থেকে এর অবস্থান ছিল বাগদাদ আর কনস্টান্টিনোপল এর পাশাপাশি।
এই নগরীর মাঝে ছিল ৩ হাজার ৮০০ মসজিদ, ৮৪ হাজার বিপনি, ৯০০ স্নানাগার। কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ছিল ৪ লাখ গ্রন্থ । এমনকি বিভিন্ন অঞ্চলের খ্রিস্টান শাসকদের চিকিৎসক এর দরকার হলে তারা কর্ডোভায় দূত প্রেরণ করত। এভাবেই এই নগরীর নাম হয়ে উঠে ‘Jewel of the World ‘।
মুসলিম আমলে স্পেনে খ্রিস্টান প্রজাদের সকল রকম অধিকার সংরক্ষণ করা হত।
ইতিহাসবিদ হোল বলেন, ‘খিলাফতের পতনের আগ পর্যন্ত নতুন গির্জা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং উপাসনার জন্য গির্জার ঘন্টা বাজানোর ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না।’ তারা বিনা বাধায় সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারতো।
কিন্তু অপরপক্ষে ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে ক্যাসেলের রাজা ৩য় ফার্ডিনান্ড ও রানী ইসাবেলার নেতৃত্বে খ্রিস্টানরা মুসলমানদের পরাজিত করে কর্ডোভা দখল করে নেয়। সেইসাথে সেখানে গির্জা প্রতিষ্ঠা করে। তখন থেকে একে বলা হয় দা মস্ক ক্যাথেড্রাল অব কর্ডোভা। ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো এই মসজিদকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বর্তমানে সেখানে দর্শনার্থীরা টিকেট কেটে ঢুকতে পারেন। তবে সেখানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। এভাবেই এক সময়ের বিখ্যাত মসজিদ আজ গির্জায় পরিণত হয়েছে। ৮০০ বছরের পুরাতন মসজিদে থেমে গেছে আজানের সুর।
-B










