ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশ

ঢাকাঃ বিশ্বজুড়ে আকাশপথের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) দাম বাড়তে থাকায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ বা প্রাইভেট জেটের খরচ এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চার্টার্ড উড়োজাহাজ পরিষেবায়।
এভিয়েশন খাতের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও চার্টার ব্রোকারদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উচ্চবিত্ত পর্যটকরা এখন অপ্রত্যাশিত ফির মুখে পড়ছেন। উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো কীভাবে বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে খরচের তারতম্য দেখা দিচ্ছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে চার্টার্ড ফ্লাইটের ভাড়া কতটা বাড়তে পারে, তার একটি উদাহরণ দিয়েছেন ভিমানা প্রাইভেট জেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমির নারান।
তিনি জানান, সম্প্রতি দুবাই থেকে লন্ডন পর্যন্ত একটি বোয়িং বিজনেস জেটের ফ্লাইটে এক গ্রাহককে ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার খরচ করতে হয়েছে। অথচ ২০২৩ সালেও একই গন্তব্যের ভাড়া ছিল ৪ লাখ ডলার।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জেট ফুয়েলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ ডলার ৬৫ সেন্টে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোয় গত মাসে জেট ফুয়েলের দাম ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প সংগঠন এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা।
আমালফি জেটসের তথ্যমতে, ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে চার্টার্ড উড়োজাহাজের দাম গড়ে ৫-১৫ শতাংশ বেড়েছে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশে ঠেকেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী সময়ে ভিড় এড়াতে অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি ব্যক্তিগত বিমানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। ভাড়ার এ উল্লম্ফন সত্ত্বেও ধনাঢ্য শ্রেণীর ভ্রমণ চাহিদা কমেনি। তবে জটিলতা তৈরি হচ্ছে পুরনো বুকিং নিয়ে।
সোর এভিয়েশন ল’র পার্টনার আমান্ডা অ্যাপলগেট জানান, প্রায় সব চার্টার চুক্তিতেই ফুয়েল ভেরিয়েবল এক্সপেন্স বা জ্বালানি পরিবর্তনজনিত ব্যয়ের একটি শর্ত থাকে। ফলে ছয় মাস আগে বুকিং দেয়া ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলো বাড়তি চার্জ আদায় করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে এশিয়া পর্যন্ত একটি রাউন্ড ট্রিপে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে ১ ডলার বাড়লে অতিরিক্ত চার্জ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।’
বড় বড় জেট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো অনেক সময় পাইকারি দরে জ্বালানি কেনে, তাই যাত্রীদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি খরচ চাপাতে চায় না এসব প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক সংস্থা এখন লোকসান দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আমির নারান বলেন, ‘আজ প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান গুনলেও ভবিষ্যতে কোনো না কোনোভাবে তা পুষিয়ে নিতে চাইবে। তখন পরিস্থিতি আরো কঠিন হবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও উড়োজাহাজ ভ্রমণের এ বাড়তি খরচ কমার সম্ভাবনা খুব কম। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায় কিছু সংস্থা ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম বা যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা বাবদ প্রতি ট্রিপে অতিরিক্ত ৮-১০ হাজার ডলার চার্জ করছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার এখন বিলাসবহুল আকাশ ভ্রমণের হিসাব পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।
-B










