পর্যটকের পদচারণায় মুখর শিমুল বাগান

পাহাড়ী ঝর্না আর সাদা পাথরের মিলন মেলায় ফাগুনের আগুন লাগা তাহিরপুরের শিমুল বন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
ফুটন্ত শিমুলের রক্তিম আভায় এখানে যেন ছেয়ে গেছে দিগন্ত। পাহাড়-নদী বিধৌত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা সারি-সারি শিমুল গাছ।
চারপাশে ঝরা ফুলের ওপর হাঁটতে হাঁটতে মনে হবে স্বর্গীয় লালগালিচা। প্রতিটা গাছই ফুলে ফুলে ভরা। এখানে ডালে ডালে মধু খেতে আসে বুলবুলি, কাঠশালিক, হলদে পাখিরা। পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখর থাকে গোটা বাগান। যেন এক রূপকথার রাজ্য।
শীতের শীর্ণ পাতাঝরা গাছের ডালে ডালে ফুলের এক অপূর্ব উন্মাদনা। বসন্তের আগমণে নিজ রূপে সেজে উঠেছে শিমুল ফুল। এবার গাছে গাছে এসেছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিময় বাতাস জানান দিচ্ছে নতুন লগ্নের বার্তা।
সব মিলেমিশে এ যেন গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। লাল পাপড়ি মেলে থাকা রক্তিম আভায় যেন পর্যটকদের মনে আলাদা ভাবে স্থান করে নিয়েছে।
ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বসন্তকাল যেন স্বার্থক হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর তীরে। প্রতি বছরের মতো এবারো ঋতুরাজ বসন্তে এই শিমুল বাগানের তিন হাজার গাছ ছেয়ে গেছে লাল রঙের ফুলে ফুলে। প্রকৃতির এই অনন্য সুন্দর দৃশ্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতে দেশ - বিদেশ থেকে ছুটে অসছেন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ।
বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বৃক্ষপ্রেমী মরহুম জয়নাল আবেদীন এই বাগানের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০২ সালে তিনি উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের পাশে যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ৯৮ বিঘা অনাবাদী বালুকাময় জমিতে সারিবদ্ধভাবে ৩ হাজারের অধিক শিমুল চারা রোপণ করেন। এক যুগেরও বেশি সময় পর সেই শিমুল চারাগুলো এখন পুষ্প-পত্র-পল্লবে মুখরিত।
বাগানটির প্রতিষ্ঠাতার ছেলে বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, শিমুল বাগানটি যুগ যুগ ধরে আমার বাবার স্মৃতি বহন করবে, এর চেয়ে বড় আর কী পাওয়ার আছে! আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা, পয়োনিষ্কাশন ও উন্নত খাবারসহ সকল সুবিধার ব্যবস্থা করেছি যাতে পর্যটকদের কোনো সমস্যা না হয়।
তিনি আরও বলেন, ছুটির দিনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হয়। তবে শিমুল গাছে ফুল ফুটার পর থেকে ঝরে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত শতশত পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে বাগান। এখানে এসে অনেকেই বনভোজন করেন। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের জন্য স্থানীয়ভাবে সুসজ্জিত ঘোড়ার ওপর ওঠে ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকলে আগামীতে তাহিরপুর পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
-B










