অপরূপ এই জায়গাগুলোতে পর্যটক প্রবেশ মানা

পর্যটকরা সবসময় নতুন নতুন স্থানে বেড়াতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই থাকেন যাদের রহস্যময় ও ভয়ঙ্কর স্থানে যাওয়ার একটু বাড়তি আগ্রহ থাকে। বিশ্বের বেশ কিছু নিষিদ্ধ স্থান রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই। অনেকেই সেসব স্থানকে ভৌতিক বা রহস্যময় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
লাসকক্স গুহা, ফ্রান্স: এই গুহায় প্রায় ২০ হাজার বছর আগের গুহামানবদের দেয়ালচিত্র রাখা রয়েছে৷ ছবিগুলি নষ্ট হবার ভয়ে সাবেক গুহাটি গত ৬০ বছর (১৯৬৭)ধরে বন্ধ৷‘‘এই গুহার ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায় যে, এই গুহামানবরা শুধু শিকার করে আর ফলমূল কুড়িয়ে বাঁচতেন না, তারা শিল্পীও ছিলেন৷ তাঁদের প্রতিভা ছিল, রুচি ছিল৷ তাঁদের সামর্থ্য ছিল কম, এমনকি রং ছিল মাত্র তিনটি: হলুদ, লাল আর কালো৷’’
নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র: ছোট্ট একটি দ্বীপ এলাকা। পুরো এলাকাটি আজ পরিত্যক্ত। জানা যায়, সেখানকার সব ঘর-বাড়ি পরিত্যক্ত হওয়ায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষে সেখানে। যেকোনো সময় সেগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। এ কারণেই না-কি এ দ্বীপে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ।
ইতিহাস মতে, একসময় নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডেই গড়ে ওঠে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল। ১৬১৪ সালে এক সংক্রমণ রোগ ছড়িয়ে পরে এ দ্বীপে। নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডের অতীত মৃত্যু এবং রোগের সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে স্থানটি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়। এরপর বিভিন্ন ভৌতিক ও রহস্যময় কারণে ১৯৬৩ সালে নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
রাজার সমাধি: প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে চিনের ২১০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের রাজা কিন শি হুয়াং-এর সমাধিতেও। মৃত্যুর পর তার দেহের সঙ্গে ২০০০ সৈন্যের টেরাকোটার মূর্তিও কবর দেওয়া হয়েছিল। এ রাজার সমাধি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খুবই গোপন এক স্থানে। ১৯৭৪ সালে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক হঠাৎই এ রহস্যময় টেরাকোটার সমাধির খোঁজ পান। রাজার শেষ চিহ্ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ সমাধিতেও পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ।
লোকমুখে প্রচলিত আছে- এ সমাধির নিচে পানিতে বাস করে মৎস্যকন্যারা।
প্যারিসের ক্যাটাকম্ব: এক সময় গণকবর দেওয়া হত এখানে। ১৮ শতকে শহরের প্রায় সব লোক অসুস্থ পড়ে। তাঁরা গিয়ে পৌরসভায় নালিশ দেয় যেন হাড়গোড় সরানো হয় এখান থেকে। ১৭৮৬ সালে এগুলো প্যারিসের মাটির নিচের এক জায়গায় সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। পুরোত দিয়ে মন্ত্র পড়িয়ে ১৭৮৮ সালের এক শুভ দিনে এটি জাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করা হয়। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কঙ্কাল আছে এই জাদুঘরে। ক্যাটাকম্ব মানেই মাটির নিচের ঘর যেখানে মৃতদের কবর দেওয়া হয়।
ভানগড়, রাজস্থান: এখনও পর্যটকরা ভানগড় গেলে সূর্যাস্তের আগেই ফিরতি পথ ধরেন।বলা হয়, গভীর রাতে এই কেল্লায় নর্তকীদের প্রেতাত্মার নাচসহ নানান অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে যা স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব।স্থানটিকে ঘিরে ভীতিকর কাহিনী এতই কঠিন শেকড় গেড়েছে যে সূর্যাস্তের পর আর সূর্যোদয়ের আগে এখানে প্রবেশ একেবারেই নিষেধ করে দিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
পার্কি বিচ: ভূত আর ভৌতিক কাহিনীর জন্য বিখ্যাত পার্কি বিচ। সন্ধ্যার পর এ স্থান থেকে ভেসে আসে অদ্ভুত পদশব্দ, চিৎকার ও ভূতুড়ে আওয়াজ, যা যে কারো মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে। মনে হয় শব্দগুলো দূর থেকে ভেসে আসছে, আবার মনে হয় যেন পানির ভেতর থেকে আসছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় পার্শ্ববর্তী বন থেকে আসছে। আর এই শব্দগুলো যেনো কৌতূহলী মানুষকে পানিতে টেনে নিয়ে যেতে চায়। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা মাছ ধরতে গভীর সাগরে গেলে এমন অনেক লোককে দেখা যায়, যাদের আগেই মৃত্যু হয়েছে। তাদের ধারণা, সাগরে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের আত্মা ঘোরাঘুরি করে সেখানে।
বোরলে রেকটরি, ইংল্যান্ড: ইংল্যান্ডের বোরলে গ্রামে অবস্থিত বোরলে রেকটরি। ইতিহাস বলছে, ১৮৬৩ সালে রেভেরেন্ড হেনরি ডাওসন এলিস বুলের জন্যে এই রেকটরি নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৪ সালেও বিশ্বখ্যাত 'লাইফ' ম্যাগাজিন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিন্তু তাতেই ধরা পড়ে মারাত্মক ঘটনা। ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফার যে ছবিগুলি তুলেছিলেন, তাতে অদ্ভূত সব দৃশ্য ধরা পড়ে, যার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এমনকী, ফটোগ্রাফার যখন বাড়িটির ছবি তুলতে যান, তখন বাড়ির ভেতর থেকেই ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারা হয়। কিন্তু ওই ঘটনার পর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগে-পরেও অবশ্য নানান ঘটনা ঘটতে থাকে। ধীরেধীরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভুতুড়ে জায়গা হিসেবে উঠে আসে বোরলে রেকটরির নাম।
নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড (আন্দামান): আন্দামান দ্বীপের নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড আন্দামানের এমন একটা জায়গা, যা আন্দামান সমুদ্রের টেকটোনিক প্লেটস এর ঠিক মাঝখানে রয়েছে। তাই এটা দূর থেকে দেখেই মন ভরাতে পরবেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে এখানে কারও যাওয়ার অনুমতি নেই। এমনকি আন্দামানের বাসিন্দাদেরও নয়।
ব্যারেন আইল্যান্ড (আন্দামান): ভারতের একমাত্র আগ্নেয়গিরি রয়েছে এই দ্বীপেই। এটিও আন্দামান সাগরের একটি টেকটনিক প্লেট এর ঠিক মাঝখানে রয়েছে। যাওয়ার সময় দূর থেকে এই আইল্যান্ডের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। চাইলে দূর থেকে লেন্স যুক্ত ক্যামেরা দিয়ে ছবিও তুলতে পারবেন। তবে এই দ্বীপের মাটিতে পা রাখা যাবে না।
প্যাংগং লেক (লাদাখ): এটি এক সময় ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং পর্যটনের মূল কেন্দ্র ছিল । কিন্তু গত বছর থেকে সেখানে ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, ফলে জায়গাটি এখন পর্যটকদের জন্য সুরক্ষিত নয়। আপাতত সেখানে যাতায়াত এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
লাক্ষাদ্বীপ: এখানকার কিছু আইল্যান্ড আছে, যেখানে দর্শনার্থীরা কখনও যেতে পারেন না। এমনকি স্থানীয়রাও যাওয়ার অনুমতি পায় না। এই জায়গাটি আসলে ভারতীয় নৌ সেনার মূল ঘাঁটি। এ কারণে সুরক্ষার কথা ভেবেই দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি নেই। শুধুমাত্র কাভারাত্তি, সিলভাস্সার মতো কয়েকটি দ্বীপেই যাওয়া যায়।










