ঈদের পরে সৈকতে বাড়ছে পর্যটক

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সুগন্ধা ও ইনানী বিচসহ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।
এ অবস্থা চলতে থাকলে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ঈদ-পরবর্তী আশানুরূপ পর্যটক এলে ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তারা।
ঈদের চতুর্থ দিন বুধবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অসংখ্য পর্যটকের ভিড়। সৈকতের অন্য পয়েন্টগুলোতেও দেখা গেছে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পর্যটকরা সময় কাটাচ্ছেন। কেউ গা ভেজাচ্ছেন সমুদ্রের নোনাজলে। কেউ বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
শহরের কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা এলাকার হোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি হোটেলে ৫০ থেকে ১২০ জন করে পর্যটক অবস্থান করছেন। ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিন ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ হোটেল-গেস্ট হাউস কক্ষে তারা থাকবেন। পর্যটক টানতে হোটেল-গেস্ট হাউসগুলোতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, শনিবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসগুলোর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি ছিল। তবে রোববার চিত্র পাল্টে যায়। এখন অনেকটাই লোকারণ্য সৈকত। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক দিন পর্যটক সমাগম আরো বাড়বে।
কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান জানান, হঠাৎ করেই সকাল ১০টার পর থেকে সমুদ্রসৈকতে নামতে শুরু করে দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে চারদিক। বিকেলের দিকে তা আরও বাড়তে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই )থেকে দূর-দূরান্তের পর্যটকদের সমাগম ঘটবে কক্সবাজারে কারণ পরের দুইদিন রয়েছে সরকারি ছুটি, আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কক্সবাজার লাবণী পয়েন্ট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাঙা হয়ে উঠেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে কিছুটা ব্যবসা শুরু হয়েছে। এখন ব্যবসা কিছুটা জমে উঠেছে । আশা করছি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার সৈকতে দায়িত্বরত বিচ কর্মীদের দলনেতা মাহবুবুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সুখকর ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণসহ সার্বিক বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। কোনোভাবে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, যথারীতি কোনো পর্যটক যেন এখানে এসে হয়রানির শিকার না হয়, ভ্রমণের ভালো স্মৃতি নিয়ে যেন ফিরতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি।
-B










