মারাত্নক ঝুঁকিতে বরিশাল বিমানবন্দর

নানাবিধ ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীন রুটের বিমান চলাচলরত বরিশাল বিমান বন্দর।
আলো স্বল্পতার কারণে ৬ দিনের মাথায় ১৪ ডিসেম্বর পুনরায় বরিশাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন বিঘ্নিত হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরদিনও একই কারণে বরিশাল বিমানবন্দরে দুটি ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। অনেক সময় মধ্য আকাশে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে অবতরণ করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে পাইলটের মুভমেন্ট অন্যদিকে প্রভাবিত হলে বড় ধরণের দূর্ঘটনা,সিডিউল বিপর্যয়,জ্বালানী খরচ বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মূখীন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে, সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়া সহ উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে সীমানাপ্রচীর থাকলেও তার নিচ দিয়ে অনায়াসে মানুষ ঢুকে পড়ছে রানওয়েতে। এমনকি সীমানা প্রাচীরের নিচে মাটি না থাকায় প্রায়ই কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণী ঢুকছে রানওয়েতে। যার ফলে ফ্লাইট উঠানামায় ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়ছে বিভিন্ন বিমানসংস্থা।
বরিশাল বিমানবন্দরে আবহাওয়া ইউনিট না থাকায় বরিশাল-ঢাকা রুটে আকাশপথের উড়োজাহাজগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। অপরদিকে, বিমানবন্দরের রানওয়েতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই।
উড়োজাহাজ সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, তাঁদের কাছে উড়োজাহাজ চালকেরা অভিযোগ করেছেন যে রানওয়ের চারদিকে অসংখ্য গাছপালা। রয়েছে উঁচু ভবনও। যে কারণে পাইলট এ বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন নিয়ে আতঙ্কে আছেন।
বিমান ওঠানামায় এখানে ব্যবহৃত ল্যান্ডিং ইকুইপমেন্টও আধুনিক নয় জানিয়ে বিমানের একজন পাইলট বলেন, আইএলএস থাকলে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা কিংবা পাইলট অসুস্থবোধ করলেও অটো পাইলটে খুব সহজে বিমান অবতরণ করতে পারে। দেশের যেসব বিমানবন্দরে এখনো আইএলএস নেই, সেখানে অন্তত ডিভি ওয়্যার আছে। এ সিস্টেমেও বিমান উড্ডয়ন কিংবা অবতরণে খুব একটা সমস্যা হয় না। বরিশাল বিমানবন্দরে যে সিস্টেম রয়েছে তা পুরোনো হওয়ায় অনেক সময় উড্ডয়ন ও অবতরণে মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে।
গত গত ৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বরিশাল বিমানবন্দরে নেমে সেখানকার অব্যবস্থাপনা দেখে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি দ্রুত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে তাগিদ দেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দরের উন্নয়নে মুখ্য সচিব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশাল বিমানবন্দরের ম্যানেজার আব্দুল রহিম এ প্রসঙ্গে জানান, তাঁর কাছে তথ্য আছে। কিন্তু বিমানবন্দরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। সিভিল অ্যাভিয়েশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।










