৫০ বছরে পা রাখলো বিমান

১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ(৪ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে পা রাখলো।
মাত্র একটি উড়োজাহাজ নিয়ে শুরু করা রাষ্ট্রয়াত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স স্বাধীনতার এই ৫০ বছরে ডানা মেলছে পৃথিবীর ১৯ গন্তব্যে।
দেশের অভ্যন্তরীণ সব রুটে ফ্লাইট চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপেও পাড়ি জমিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার সেরা ১০টি এয়ারলাইন্সের একটি হিসেবে বিশ্বমান অর্জনের রূপকল্প সামনে রেখে নিরলস কাজও করে যাচ্ছে সংস্থাটি ।
এক সময়ের লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত জাতীয় পতাকাবাহী বিমানকে আধুনিকায়ন করতে এবং যাত্রী সেবার মান বাড়াতে বর্তমান সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বহরে যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭'র মত উড়ান। বিমানের বহরে রয়েছে বর্তমানে ২১টি এয়ারক্রাফট।
বর্তমানে দেশের ভেতরে ১২টি এবং আন্তর্জাতিক ১৯টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। সব মিলিয়ে সপ্তাহে ২৭২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আর বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করতে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার জনবল।
লন্ডন, ম্যানচেস্টার, দুবাই, আবুধাবি, মাস্কাট, কুয়েত, জেদ্দা, মদিনা, দাম্মাম, রিয়াদ, দোহা, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক, দিল্লি, কলকাতা, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি সংস্থাটি করোনার ধকল কাটিয়ে ভবিষ্যতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ছাড়াও ইউরোপের আরো বেশ কয়েকটি দেশে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
অপরদিকে, ফ্লাইট শিডিউল ঠিক না থাকা,খাবারের মান,লাগেজ লেফট বিহাইন্ড হওয়া, অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা না থাকাসহ সেবার মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে ও বিমানকে ঢেলে সাজানোর বর্তমান সরকারের উদ্যোগ এখন বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
করোনাকালীন সময়ে সংস্থাটির ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের প্রয়োজনে সেই দুঃসময়ে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সেবা প্রদানের পাশাপাশি সাশ্রয়ী খরচে টিকা ও সুরক্ষাসামগ্রী পরিবহনসহ মহামারি কালীন দেশে-বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদেরকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়'র সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। করোনাকালে পৃথিবীর বহু দেশে যখন বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, তখন বাংলাদেশ বিমান দেশবাসীর জন্য নতুন নতুন রুট খুলছে।
তিনি আরো বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে এ অঞ্চলের সেরা বিমানবন্দর। হবে আঞ্চলিক হাব।
বিমানবন্দরের কিছু সমস্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের কাজ দিয়ে যাত্রীদের আস্থা অর্জন করছি আমরা। এখন এক ঘন্টার মধ্যেই লাগেজ লেফট বিহাইন্ড হচ্ছে, যাত্রী সেবার মানও অনেক ভালো। ছোট-খাটো সমস্যাগুলোও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স|










