রাত পোহালেই অচল ব্ল্যাকবেরি ফোন

একদা স্মার্টফোন মার্কেটের একচ্ছত্র অধিপতি ব্ল্যাকবেরি(BlackBerry)ব্র্যান্ড। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে যে, আগামীকাল (৪ জানুয়ারি) থেকে প্রোভিশনিং সার্ভিস হারাবে। এর অর্থ হল, স্মার্টফোনগুলিতে আর ওয়াই-ফাই এবং সেলুলার নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করবে না।
আজ থেকে ৮ বছর আগে স্মার্টফোন মার্কেটে পা রাখা ব্ল্যাকবেরি ব্যাবহারকারীদের কাছে iPhone যেভাবে বিশ্ববাজারকে বিপুলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে ঠিক একইরকম জনপ্রিয় ছিল। মূলত ব্ল্যাকবেরির কীবোর্ড-ডমিনেটিং ডিজাইনই মডেলগুলিকে জনপ্রিয় করে তোলে, বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা মনে করতেন যে উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি প্রদানের ক্ষেত্রে এই মডেলগুলি বিশেষভাবে কার্যকর।
তবে মার্কেটে টাচস্ক্রিন Android ফোনের আগমনের সাথে সাথেই ব্ল্যাকবেরির বিজনেস গ্রাফ নীচের দিকে নামতে শুরু করে, যা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কোনোভাবেই আর উন্নতির মুখ দেখতে পায়নি।
এমনকি iPhone লঞ্চ হওয়ার পরও তা যে বিশ্ববাজারকে বিপুলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, সেদিকেও ব্ল্যাকবেরির বিশেষ চোখ যায়নি, যে কারণে সংস্থার প্রথম টাচস্ক্রিন ফোন লঞ্চ করতে আরও এক বছর সময় লেগে গিয়েছিল। কিন্তু কোনোমতে লঞ্চ হওয়ার পরেও সেই টাচস্ক্রিন ফোন সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি। কেন না iPhone বা Android স্মার্টফোন ব্যবহার করা যতটা সহজ, ব্ল্যাকবেরির সফ্টওয়্যারের ইউজারদের কাছে অনেক কঠিন মনে হয়েছিল। ফলে ব্ল্যাকবেরির হাত ছেড়ে ইউজাররা iPhone এবং Android-কে আলিঙ্গন করতে শুরু করে।
তাই অবশেষে এবার একপ্রকার বাধ্য হয়েই পাততাড়ি গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে BlackBerry। যদিও সংস্থাটির কয়েকটি হ্যান্ডসেট বেশ কিছু গ্রাহককে প্রলুব্ধ করেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও BlackBerry সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এগুলি কোনোমতেই Android এবং iPhone-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে চলতে পারবে না। তাই একটি FAQ পেজে BlackBerry নিশ্চিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আর তাদের ডিভাইসগুলিতে প্রোভিশনিং আপডেট পাঠাবে না। ফলস্বরূপ ফোনগুলিতে আর ডেটা, কল বা এসএমএস কোনো কিছুই সাপোর্ট করবে না। অর্থাৎ ফোনগুলিও অকেজো হয়ে গেল এবং সেইসাথে BlackBerry-রও নিশ্চিতভাবে মৃত্যু ঘটলো।










