সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে চীনের শক্তির মহড়া

ঢাকাঃ এশিয়ার বৃহত্তম উড়োজাহাজ প্রদর্শনী ‘সিঙ্গাপুর এয়ারশো-২০২৬’-এ নিজেদের শক্তিমত্তার বিশাল প্রদর্শনী করল চীন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে বেইজিং একদিকে যেমন তাদের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করেছে, অন্যদিকে বিশ্ব বাজারে মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সক্ষমতাও তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রদর্শনীতে চীনের এমন সক্রিয় উপস্থিতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দূরত্ব একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের এয়ারশোতে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সবচেয়ে আধুনিক বাণিজ্যিক জেটে নজর কেড়েছে।
বিশেষ করে চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সি-৯১৯’ (C919) ন্যারোবডি জেটটি প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা বোয়িং ও এয়ারবাসের একচেটিয়া বাজারে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও চীন পিছিয়ে নেই। বেইজিংয়ের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং নজরদারি সরঞ্জামগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের একটি স্পষ্ট চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।
বিপরীতে, এবারের প্রদর্শনীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে ম্লান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও মার্কিন কিছু শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সেখানে উপস্থিত ছিল, তবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে তারা কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থানে ছিল।
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ‘বিচ্ছিন্ন’ বা ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়েছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারশোকে কেন্দ্র করে চীনের এই শক্তিমত্তা প্রদর্শন কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রচারণা নয়, বরং এটি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যখন উত্তজনা তুঙ্গে, তখন এই প্রদর্শনীতে চীনের এমন রাজকীয় উপস্থিতি পশ্চিমা বিশ্বকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনগুলো এখন গুণগত মানে পশ্চিমা প্রযুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, যা বিশ্ব অস্ত্র বাজারে একটি নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে, সিঙ্গাপুর এয়ারশো ২০২৬-এ বেইজিংয়ের এই ‘মাসল ফ্লেক্সিং’ বা শক্তির মহড়া বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
-B










