কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবসায় শত কোটি টাকার লোকসান

কক্সবাজার : বছরের শুরু থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। ফলে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা পর্যটন খাতে এক বিশাল বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, গত দেড় মাসে পর্যটক না থাকায় ব্যবসায়ীদের শতকোটি টাকার লোকসান হয়েছে। নির্বাচনি প্রভাব কাটতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, পহেলা ফাল্গুন ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস উদযাপনে পর্যটকের দেখা মেলেনি কক্সবাজারে। নির্বাচনের কারণে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য অনেক পর্যটক তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেন। এই সময়ে যেখানে ব্যবসায়ীদের বড় লাভের আশা ছিল, সেখানে তাদের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের অধিকাংশ হোটেলে কক্ষ বুকিং নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। কোথাও কোথাও তারকা হোটেলে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রুম বুকিং থাকলেও সাধারণ হোটেলগুলোতে বুকিং নেই বললেই চলে। এতে হোটেল খাতের পাশাপাশি খাবারের দোকান, বিনোদন কেন্দ্র এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, 'নির্বাচন উপলক্ষে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটকদের ঘোরাফেরা সীমিত হয়েছে। এ কারণে হোটেল-মোটেল জোন ও সমুদ্রসৈকত ফাঁকা রয়েছে। অন্যান্য ছুটির দিনের তুলনায় এবার পর্যটন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।'
ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনি পরিস্থিতির কারণে হোটেল-মোটেলে বুকিং কমেছে। তারকা হোটেলে ১০-১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে, যার বেশির ভাগ বিদেশি নাগরিক। দেশীয় পর্যটক তেমন নেই বললেই চলে। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনি আবহে পর্যটন জোনে নীরবতা নেমে এসেছে।
ঝিনুক ব্যবসায়ী রায়হান উদ্দিন বলেন, 'আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক না থাকলে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যেতে হয়। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকেই দোকান বন্ধ রেখে, ঘরে অলস সময় পার করছি।'
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, 'ভোটের সময় মানুষ নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করায় তুলনামূলকভাবে পর্যটক কম ছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবারও পর্যটকরা কক্সবাজারে ভিড় করবেন।'
-B










