বাগেরহাট-খুলনায় পাঁচ তারকা হোটেল করবে পর্যটন করপোরেশন


ঢাকাঃ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাগেরহাট ও খুলনায় পাঁচ তারকা হোটেল এবং পর্যটন প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ক্রাউন প্লাজা গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিপিসির চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, পর্যটন খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে মানসম্মত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
‘পর্যটন শুধু বিনোদন ও ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে,’ বলেন তিনি।
শামীমুজ্জামান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন সুবিধা, রেস্টহাউসসহ বিভিন্ন ধরনের আতিথেয়তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে বিপিসি।
তার মতে, পর্যটন খাতে মানুষের ব্যয়ের প্রভাব শুধু হোটেল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, রেস্তোরাঁ, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, স্থানীয় গাইড, হস্তশিল্প, খাদ্য উৎপাদন, কৃষি, বিনোদন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও এর সুফল পান।
তিনি বলেন, পর্যটন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে নারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এ খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন কৌশলে ‘কর্মসংস্থানের জন্য পর্যটন, বিনিয়োগের জন্য পর্যটন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পর্যটন’—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বিপিসি চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া কনভেনশন সুবিধা, ওয়েলনেস ও চিকিৎসা পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন এবং ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটনকে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
এসব খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং বেসরকারি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান শামীমুজ্জামান।
এদিকে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬। মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে।
পর্যটনবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘পর্যটন বিচিত্রা’ আয়োজিত এ মেলা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালয়েশিয়া, চীন ও পাকিস্তান। তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পর্যটনসেবা ও পণ্য প্রদর্শন করবে।










