এক ভিসায় ঘোরা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ


ঢাকাঃ ইউরোপের ‘শেনজেন ভিসা’র মতো এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ খুব শিগগির চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই।
রিয়াদে আয়োজিত এক সম্মেলনে জিসিসি মহাসচিব জানান, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ আরো সহজ হবে। একটি ভিসা নিয়েই পর্যটকেরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—এই ৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
ভিসার ফি, মেয়াদ ও চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এটি দ্রুত চালুর জন্য একযোগে কাজ করছে।
এই উদ্যোগের শুরু ২০২৩ সালের অক্টোবরে। ওই সময় ৬দেশের পর্যটনমন্ত্রীরা এক বৈঠকে প্রস্তাবটিতে সম্মতি দেন। পরের মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এতে চূড়ান্ত সায় দেন।
ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ভিসার আওতায় তিনটি দেশে দুই রাত করে অবস্থান ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ানোর জন্য খরচ হতে পারে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এই উদ্যোগ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিশ্বের মানুষের কাছে একটি একক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।
শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে নতুন একটি উড়োজাহাজ ভ্রমণ সুবিধা চালু হয়েছে। এতে যাত্রীরা প্রথম বিমানবন্দরেই সব ধরনের ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। ফলে অন্য দেশে পৌঁছানোর পর তাদের দ্বিতীয়বার পাসপোর্ট যাচাইয়ের লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
সব মিলিয়ে মুক্ত বাণিজ্য ও সহজ যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার যে বড় পরিকল্পনা চলছে, সমন্বিত এই ভিসা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি চালু হলে বিশ্বের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত আরো সহজ হবে।










