ঠাঁই নাই অবস্থা: কোলাহলমুখর সৈকত

নতুন বছরের আগমনে ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’ উপলক্ষে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে জড়ো হয়েছে লাখো পর্যটক । শীতের হিমেল হাওয়া ও শিশিরভেজা বালিয়াড়ি আবারও মেতেছে পর্যটকদের পদচারণায়।
সমুদ্রতটকেও সাজানো হয়েছে নতুন করে। পরিপাটি করে দোকানপাট সাজিয়েছেন দোকান মালিকরা।
বছরের শেষ সূর্যাস্ত এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় যেন স্মরণীয় করে রাখতে প্রকৃতিপ্রেমী এসব মানুষের আগমন ঘটেছে এখানে।
শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটন নগরীতে হরেকরকম যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট গাড়িতে এবং বিমানে পৌঁছেন ভ্রমণপিপাসু দেশি-বিদেশি পর্যটক। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। পাশাপাশি হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন স্পটে বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি।
বছরের শেষদিনে প্রবল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, চট্টগ্রামে সহ রাঙামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ির বিনোদন স্পটগুলোও ছিল কোলাহলমুখর। বছরের শেষদিন শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটিতে কর্মব্যস্ত মানুষ আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। কক্সবাজারের ঘটনা (২টি ধর্ষণ) যাই হোক, ভ্রমণ বিলাস বলে কথা। পরিবার নিয়ে মানুষ ঘুরে বেরিয়েছে নিজের মতো করে। পালন করেছে থার্টিফার্স্ট।
পর্যটন স্পট, বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক রেস্টুরেন্টে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। দিনটি কাটে অনেকটা কোলাহলমুখর পরিবেশে। তবে প্রশাসন ও পুলিশের কড়া নজরদারিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিগত কয়েকবছরের মতো এবারও থার্টিফার্স্ট নাইটে সৈকতের বালিয়াড়ি বা উন্মুক্ত কোনো স্থানে হয়নি কোনো অনুষ্ঠান। তবে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, সায়মন বীচ রিসোর্ট, কক্স-টু-ডে এবং সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রামের আয়োজনের প্রস্তুতি ছিল অনেক আগে থেকেই। যে কারনে তা বাস্তবায়নও হয়েছে।
হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক এবং বিশেষ মেহমান ব্যতিত এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের শরীক হবার কোন সুযোগ হয়নি বলে জানালেন আয়োজকরা।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল জানান, এবারে 'থার্টিফার্স্ট নাইট' উপলক্ষে সৈকতে উন্মুক্ত কোনো আয়োজন না থাকায় পর্যটকরা কিছুটা হতাশ। তবুও তাদের সময় ভালো কাটছে। উপচে পড়া ভিড়ে আমরাও আনন্দিত।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি হোটেলেই সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশও মাঠে রয়েছে। টেকনাফ, সেন্টমার্টিনসহ জেলার সব পর্যটন স্পটই পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত বলে জানান তিনি।










