আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম


ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর সপ্তাহান্তে উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান স্থগিত করায় কূটনৈতিক সমাধানের আশা তৈরি হয়েছে।
যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ ডলার ৫৫ সেন্ট বা প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮৯ ডলার ২৩ সেন্টে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ ডলার ১ সেন্ট বা ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলার ৩০ সেন্টে। উভয় বেঞ্চমার্কের দামই ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সংঘাত লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরব থেকে বাব এল-মান্দেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়। তবে হামলা বন্ধের ঘোষণার পর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বাজারে মূল্যচাপ কমতে শুরু করেছে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টানা ১৩ রাত হামলার পর অভিযান বন্ধ করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে ইরানও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে তারাও পাল্টা আক্রমণ স্থগিত রাখবে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ বিরতি এখনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি নয়। এসইবি রিসার্চের বাজার বিশ্লেষক ওলে হভালবাই বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো স্বাক্ষরিত কাঠামো, যাচাই ব্যবস্থা কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। পণ্য পরিবহনবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে এ পথে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে প্রবাহ যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা চায়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও আলোচনার জন্য ইরানের অনুরোধের খবর সঠিক নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করায় গতকালও ছয়টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, জাহাজগুলোকে ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। ফলে হামলা বন্ধ ও তেলের দাম কমলেও হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল কত দ্রুত ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।





