‘কার্গো হোল্ডে ঘুম: জেগে দেখেন ভিন দেশ

অনেকটা গ্যালিভারের মতোই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বিমানের এক কর্মী। তিনি যে কাণ্ড করেছেন তা অনেকটা অবাক করার মতোই। ‘কার্গো হোল্ড’ অর্থাৎ বিমানের যাত্রীদের মালপত্র রাখার জায়গা। সেখানে কাজ করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ওই কর্মী। সেই অবস্থায় বিমান তাকে নিয়ে চলে গেল আরেক দেশে।
ঘটনাটি মুম্বাইয়ে ঘটেছে।
ওই কর্মী ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোতে চাকরি করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং ব্যুরো অব সিভিল এভিয়েশন সিকিয়োরিটি (বিসিএএস)।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেশটি যখন জেরবার, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পরে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা একের পর এক ঘটনা যখন ঘটছে, তখন এই ঘটনাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশাল ফাঁক ও বড় ধরনের গাফিলতি বলে মনে করছেন বিমান বিশেষজ্ঞেরা।
প্রশ্ন উঠছে বিমান সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে, বিশেষত বিমানের পাইলটের দৃষ্টি এড়িয়ে এমন ঘটনা ঘটল কীভাবে?
মুম্বাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিমানের কার্গো হোল্ডে তাপমাত্রা ও বায়ুচাপ ঠিকঠাক ছিল বলেই জীবিত অবস্থায় ওই কর্মী আবুধাবি পৌঁছতে পেরেছেন। তাপমাত্রা বা বায়ুচাপের পার্থক্য হলে ওই কর্মীকে হয়তো বাঁচানো যেত না। আবুধাবি পৌঁছে কার্গো হোল্ড খুলতেই স্থানীয় কর্মীরা অবাক হয়ে যায়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া ভারতীয় নাগরিক আবুধাবি পৌঁছে যাওয়ায় বিষয়টি বিদেশ মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়। সেখান থেকে তার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে তবেই তাকে ভারতে আনা হবে।
বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, মাঝরাতে মুম্বাই-আবুধাবি বিমানের যাত্রীদের ওঠার সময় তাদের মালপত্রও তোলা হচ্ছিল কার্গো হোল্ডে। মুম্বাই বিমানবন্দরে ইন্ডিগো তার নিজস্ব এজেন্সিকে দিয়ে এই কাজ করিয়ে থাকে।
ওই কর্মী সেই এজেন্সিতেই কাজ করেন। অন্য কর্মীদের সঙ্গে তিনি কার্গো হোল্ডে মালপত্র তোলার সময় ঘুমিয়ে পড়েন। সেটা তার সঙ্গে থাকা অন্য কর্মীরা খেয়ালও করেননি বলে অভিযোগ। সব মালপত্র তোলা হয়ে গেলে ওই ঘুমন্ত কর্মীকে ভিতরে রেখেই কার্গো হোল্ডের দরজা ‘লক করে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন উঠছে, সহকর্মীরা কেন খেয়াল করলেন না যে, ওই যুবক কার্গো হোল্ড থেকে বেরিয়ে আসেননি?
বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের কর্মীদের দিয়ে দিন-রাত কাজ করানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের জন্য তারা ওভারটাইম কাজ করে। ফলে দিনে কাজ করার পরেও রাতের শিফটে কাজ করতে হয় তাদের। মনে করা হচ্ছে, ওই কর্মীও এ ভাবে দিন-রাত কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে মালপত্র তোলার সময়েই ঘুমিয়ে পড়েন।
বিমানের পাইলট বলেন, যাত্রী কেবিনের হাওয়াই ঘুরে কার্গো হোল্ডে যায়। তাই সেখানে অক্সিজেনের অভাব থাকে না। কিন্তু বায়ুচাপ ও তাপমাত্রার তারতম্য হলে সেখানে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার কথা নয়। সেজন্য যখন কেউ কার্গো হোল্ডে খাঁচায় ভরে কোনো পোষ্যকে নিয়ে যান, তখন আমাদের বলে দেওয়া হয়। আমরা বায়ুচাপ ও তাপমাত্রা ঠিক রেখে দিই।










