রোজায় পর্যটক টানতে হোটেল-রিসোর্টে বিশেষ মূল্যছাড়

ঢাকাঃ এবারের পর্যটন মৌসুমে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাবে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা পর্যটক আকর্ষণে বিশেষ ছাড় ও প্যাকেজ ঘোষণা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পটভূমিতে এবারের পর্যটন মৌসুমে ভালো ব্যবসা হয়নি বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের কারণেও কয়েক দিন দেশের পর্যটন এলাকার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ে ছিল খরা। এর মধ্যে আগামীকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। সব মিলিয়ে রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবসায়ে ভাটা। এ কারণে পর্যটক আকর্ষণে রিসোর্ট ও হোটেলগুলো এখন বিশেষ ছাড়সহ নানা সুবিধা দিয়ে ব্যবসা বাড়াতে তৎপর।
রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে কিছু রিসোর্ট ও হোটেল পর্যটক আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের ছাড় দিয়ে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিছু রিসোর্ট রোজার সময়ের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
পর্যটন খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রোজা শুরু হলে অবকাশযাপন ও ভ্রমণ আরও কমে যাবে। শীতকাল দেশের পর্যটনের প্রধান মৌসুম। এ বছর এই মৌসুম ভালো যায়নি। রোজা শুরু হলে পারিবারিক ও ধর্মীয় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফলে এ সময়ে মানুষের ভ্রমণে প্রবণতা কম থাকে। এ সময়ে কিছুটা হলেও ব্যবসা ধরতে তাই হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে।
গাজীপুরের রিসোর্টগুলোয়ও ছাড় চলছে
গাজীপুরের রাজবাড়ীতে অবস্থান সারাহ রিসোর্টের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরু থেকেই এই রিসোর্টটির সব কক্ষেই ৫৩ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়।
গাজীপুরের আরেক অভিজাত রিসোর্ট ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। রিসোর্টটিতে রোজায় সব কক্ষেই ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে বলে জানান সহকারী ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান।
গাজীপুরের আরেক রিসোর্ট কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব অ্যান্ড রিসোর্ট। এই রিসোর্টের ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এই রিসোর্টের ভিলা বুকিংয়ে ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর রোজায় দেওয়া হয়েছে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়। এ ছাড়া গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টসহ বেশির ভাগ রিসোর্টে পর্যটন আকর্ষণে রোজার আগে ও পরে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে।
সিলেট–কক্সবাজারেও ছাড়
সিলেটের হোটেল–মোটেলগুলো ভালো ব্যবসা করলে মাসে গড়ে দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। সিলেটে সাধারণত শীত ও বর্ষা মৌসুমে বেশি পর্যটক ভিড় করেন। সিলেট অঞ্চলের আরেক পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গল। চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু তারকা হোটেল ও রিসোর্ট।
বালিশিরা রিসোর্টের রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ অয়ন শর্মা বলেন, জানুয়ারিতে কিছুটা বুকিংয়ের চাহিদা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে চাহিদা কমে গেছে। রোজার সময় দেখা যায়, টানা ৪ থেকে ৫ দিনও কোনো পর্যটক আসেন না।
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারেও রুম বুকিং কমেছে। রোজা শুরু হলে তা আরও কমে যাবে বলে ধারণা করছেন সেখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা। এ কারণে পর্যটক টানতে অনেক হোটেল ও রিসোর্ট ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। কেউ ইফতার ও সাহ্রিভিত্তিক বিশেষ প্যাকেজ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রোজা উপলক্ষে কক্সবাজারের হোটেল এক্সোটিকা সাম্পান হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টও ছাড় দিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই হোটেলে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই হোটেলের রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রোজায় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের প্রধান বিপণন ও রাজস্ব কর্মকর্তা এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, রোজার সময় পর্যটকদের ভ্রমণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায়। তবে এবার নির্বাচন উপলক্ষে চলতি মাসের শুরু থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা কমা শুরু হয়েছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবারের ঈদে ভালো ব্যবসা হবে।
-B










