কোয়ারেন্টাইন-মুক্ত ভ্রমণ স্থগিত করলো থাইল্যান্ড

বিশ্বব্যাপী ওমিক্রন ঝড় ওঠায় থাইল্যান্ড ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন-মুক্ত প্রবেশ কর্মসূচি স্থগিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রয়ুথ চ্যান-ওচা-এর সভাপতিত্বে কোভিড -১৯ প্যানেল নতুন স্ট্রেন নিয়ে যেন কেউ দেশে প্রবেশ না করে সে কারনে আগামী ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই পর্যটকদের স্বাগত জানানো শুরুর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ওমিক্রনের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে দেশটির সরকার এই স্থগিতাদেশ দিলো।
উপ-প্রধানমন্ত্রী সুপত্তনপং পুনমিচাও বলেছেন, কোভিড প্যানেল ৪ জানুয়ারি নীতিটি পুনর্মূল্যায়ন করবে।
এর আগে, নভেম্বর মাসে দেশটি বিশ্বের কম ঝুঁকিপূর্ণ ৬০ দেশের টিকার ডোজ সম্পূর্ণকারী পর্যটকরা কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই থাইল্যান্ড ভ্রমণ করতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওঁচা। তিনি বলেছিলেন, আকাশপথে দেশটিতে প্রবেশের পর করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলে কোনও পর্যটককে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে না।
সরকারের মুখপাত্র থানাকর্ন ওয়াংবুনকং চানা এক ব্রিফিং এ বলেছেন, প্রায় ২০০,০০০ দর্শনার্থী যারা আগে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া প্রবেশের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল তাদের এখনও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে, যদিও তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং থাইল্যান্ডে আসার সময় এবং দেশে সপ্তম দিনে দুটি পিসিআর পরীক্ষার মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
কোয়ারেন্টাইন-মুক্ত প্রবেশের জন্য অনুমোদিত ভ্রমণকারীদের মধ্যে ১১০,০০০ ইতিমধ্যেই এসেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী যোগ করেছেন।
সম্ভবত লকডাউন পুনর্বহাল করাই হবে শেষ উপায়, দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
বিদেশী ভ্রমণকারীরা এখনও দেশের স্বাভাবিক কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া এবং এর ফুকেট স্যান্ডবক্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারছেন।
বিধিনিষেধটি এমন সময়ে আরোপ করতে বাধ্য হলো যখন পর্যটন নির্ভর দেশটি করোনভাইরাস মহামারী বিধিনিষেধ অনুসরণ করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করছিল।
সরকার পূর্বাভাস দিয়েছিল২০২২ সালে প্রায় ১৫মিলিয়ন পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করে দেশটির রাজস্ব খাতে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছিল যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ হলে দেশটিতে ২০২২সালে ৩.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে ০.৩ শতাংশ অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে।










