ফের ‘বিধিনিষেধ’র কবলে যাচ্ছে দেশ

দেশে ফের করোনার সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বেড়েছে মৃত্যুও। এক সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মার্চ-এপ্রিলে দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় গতকাল ওমিক্রন ইস্যুতে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক করেছেন নীতিনির্ধারকেরা। বৈঠকে আবারো বিধিনিষেধ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তবে এখনো লকডাউন দেয়ার মতো চিন্তা করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আপাতত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় গণপরিবহনে আবার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করার নির্দেশনা আসছে। ভ্যাকসিন নেয়া না হলে রেস্টুরেন্টে যাওয়া যাবে না।
এদিকে গতকাল বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, আগামী মার্চ-এপ্রিলে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট দেশে বড় ধরনের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করছি, মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে পারে। এ কারণে, আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা জোরদারের জন্য কাজ করছি।
ওমিক্রন ঠেকাতে বিধিনিষেধ আসছে: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের চলাফেরার ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কেউ গণপরিবহনে উঠতে পারবে না। শুধুমাত্র করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা অফিস-আদালত, রেস্টুরেন্ট, শপিং মলে প্রবেশ করতে পারবে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে লোক সমাগম সীমিত করা হবে। গণপরিবহনেও আসন সংখ্যা সীমিত করা হবে। খুব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ল্যান্ডপোর্ট, সিপোর্ট, এয়ারপোর্ট যেগুলো আছে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো এবং আরও মজবুত করা হবে। আমরা এন্টিজেন টেস্ট করছি, পিসিআর টেস্টও করছি এবং কোয়ারেন্টিনের জন্য আরও তাগিদ দেয়া হয়েছে। কেউ আক্রান্ত থাকলে তাদের যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা।
বিশেষ করে পুলিশ পাহারায় কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, যত অনুষ্ঠান আছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে যাতে সংখ্যা যেন সীমিত করা হয় সে বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
দোকানপাটে গেলে, বাসে-ট্রেনে উঠলে, মসজিদে গেলে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক না পরলে জরিমানা করা হবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। আরেকটি তাগিদ দেয়া হয়েছে টিকা যেন গ্রহণ করে। টিকা যারা গ্রহণ করেছে তারা রেস্টুরেন্টে খেতে পারবে, অফিসে যেতে পারবে, বিভিন্ন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতে পারবে মাস্ক পরা অবস্থায়। কিন্তু টিকা যদি না নিয়ে থাকে তারা কিন্তু রেস্টুরেন্টে যেতে পারবে না। যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় তবে ওই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করা হবে। এ জন্য পনেরদিন সময় দেয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হবে।
লকডাউন বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনাএ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লকডাউনের সুপারিশ এখনো করিনি। লকডাউনের বিষয়টি পরে দেখা যাবে।
বিমানের ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিমানে যারা ওঠেন তারা অনেক পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে ওঠেন। নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলিনি। তারা যেন মাস্ক ব্যবহার করেন এবং টিকা নেন সে বিষয়টি নজরদারি জোরদার করা হবে, নিশ্ছিদ্র করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকবে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা টিকা দেয়ার বিষয়ে ঢিলেঢালা ভাব আছে। আমরা সহযোগিতা করবো। আমরা আহ্বান করছি তাড়াতাড়ি টিকা দেয়ার ব্যবস্থা যেন করা হয়।










