সময়ের আগেই চালু হবে থার্ড টার্মিনাল: পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব কমিটি

নির্মাণযজ্ঞ শুরুর দেড় বছর পার হতে না-হতেই দৃশ্যমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। সরকার বলছে, করোনার মধ্যেও কাজ অব্যাহত থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের এই অত্যাধুনিক টার্মিনালের নির্মাণকাজ।
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শনকালে এ পর্যবেক্ষণ ও মতামত দেন। এ সময় জানানো হয়, এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ফজলে হোসেন বাদশা, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ সময় বিগত দুবছর ধরে কিভাবে করোনা মহামারীর মাঝেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতি শিফটে তাদের ৫ হাজার শ্রমিক দিবারাত্রি অক্লান্ত ঘামঝরানো শ্রমে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত ছিল তার বিশদ বর্ণনা দেয়া হয়।
এতে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তাদের সামনে বিশাল মনিটরে দুঘণ্টাব্যাপী তথ্য উপস্থাপনা করেন বেবিচক চেয়ারম্যান।
তিনি অতিথিদের জানান, আগামী ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সময়সীমা থাকলেও তার ছয়মাস আগে ডিসেম্বরেই তা শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। টার্মিনালটি চালু হলে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে এখানে।
বিমানবন্দরের দক্ষিণ ও উত্তরপ্রান্ত দিয়ে কিভাবে যাত্রীরা যানজটবিহীন চলাচল করবেন সেটার ওপর সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়, যা দেখে উপস্থিত অতিথিরা বেশ মুগ্ধ ও আশাবাদী হয়ে ওঠেন। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে যাওয়া হয় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে। তারা দেখেন ওই সময় পাঁচ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন পয়েন্টে কাজে ব্যস্ত।
পরিদর্শন শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলেন, করোনার মধ্যেও কাজ অব্যাহত থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের এই অত্যাধুনিক টার্মিনালের নির্মাণকাজ। সবকিছু এই গতিতে চললে নির্মাণকাজ শেষের অনেক আগেই চালু করা যাবে তৃতীয় টার্মিনাল।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, করোনাতেও এই কাজটি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। এতে আমরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। আমাদের মূল কাজের ২৯ ভাগেরও বেশি এরই মধ্যে শেষ। এ পর্যায়ে আমাদের ২৭ ভাগ হওয়ার কথা ছিল।
অপরদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, সবকিছু এই গতিতে চললে নির্মাণকাজ শেষের লক্ষ্য ২০২৩-এর জুনের অনেক আগেই চালু করা যাবে তৃতীয় টার্মিনাল।










