ভার্জিন বীচ সোনাদিয়া : তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন

সরকারি তিন দিনের ছুটিতে এবার পর্যটকের ঢল নেমেছিল ছোট্ট এই দ্বিপটিতে। ঢাকার একদল পর্যটক সাগরপাড়ে তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রি যাপন করে সোনাদিয়ার সৌন্দর্য উপভোগ করেন।তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিজয় দিবসের ৩ দিনের ছুটি উপভোগ করতে কক্সবাজার এসে ১৮ ডিসেম্বর সোনাদিয়া পাড়ি জমান। রাত্রি যাপনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁবু নিয়ে এসে তারা রাত্রি যাপন করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ কামাল বলেন, শীতের মৌসুমে পর্যটকের ভিড় জমে সোনাদিয়ায়। এখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ-সুবিধা তেমন না থাকলেও স্থানীয়ভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
কক্সবাজার শহর থেকে সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরগর্ভে অবস্থিত সোনাদিয়া দ্বীপ। তিন দিকে সমুদ্রসৈকত ঘেরা দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার।
পর্যটনের এক ওপার সম্ভাবনাময় উপদ্বীপ সোনাদিয়া। দ্বীপটি ভ্রমণে স্থানীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চললেও রাত্রি যাপনের সুযোগ সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ভার্জিন বীচ খ্যাত ছোট্ট এই দ্বীপটি।
তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলাচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত|
একচিলতে লম্বাটে দ্বীপটি আয়তনে প্রায় ১০ হাজার একর। দ্বীপ ঘিরে টানা সৈকত। এই দ্বীপে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। সাগরের পানি গভীর এবং নীল, কক্সবাজারের মতো ঘোলা নয়।
সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য কোনো আবাসিক হোটেল নেই। খাওয়ারও তেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিলে তারা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রেও ভরসা সেই স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তবে রাতে থাকার কষ্টের কথা চিন্তা করে যারা সূর্যোদয়ের আগেই ফিরে আসবেন তারা সোনাদিয়া দ্বীপের আসল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এখানকার সূর্যাস্ত আরও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেনো দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে তখন তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ।
বেজার উদ্যোগ:
সোনাদিয়াকে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ জন্য এই দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৭ একর জমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) বরাদ্দ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বেজা সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের জন্য পর্যটনকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ইত্যাদি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে সরকারের কাছ থেকে এই জমি বরাদ্দ নিয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেখানে পর্যটন শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে সংস্থাটির।










