ইরানের আকাশপথ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকা : পৃথিবী গোল। তাই উড়োজাহাজগুলো মানচিত্রের সোজা দাগ ধরে যায় না। চলে সবচেয়ে কম দূরত্বের পথে— যাকে বলা হয় গ্রেট সার্কেল রুট।
এই রুটগুলোর বড় অংশ পড়ে ইরানের আকাশে। এর মানে— সময় কম লাগে জ্বালানি কম খরচ হয় টিকিটের দাম তুলনামূলক কম থাকে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছায়। এই সুবিধার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ইরানের আকাশ ব্যবহার করে। ইরান যেন বিশ্ব উড়ানের এক ব্যস্ত মোড়।
ইরানের আকাশ এড়িয়ে গেলে উড়োজাহাজগুলোকে যেতে হয়— মধ্য এশিয়া ঘুরে, কাস্পিয়ান সাগরের পাশ দিয়ে বা আরব সাগরের ওপর দিয়ে এই পথগুলো অনেক লম্বা। এর ফল— যাত্রা দীর্ঘ, জ্বালানি বেশি, খরচ বেশি, শিডিউল জটিলতা।
এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে যাত্রীর টিকিটের দামে। অর্থাৎ—একটা দেশের আকাশের সিদ্ধান্ত পকেটেও প্রভাব ফেলে।
আকাশ শুধু রাস্তা না, এটা নিরাপত্তার বিষয়ও। যখন কোনো অঞ্চলে—সামরিক তৎপরতা বাড়ে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হয়, যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়, তখন সেই আকাশ দিয়ে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একটি আকাশ বন্ধ মানে, অর্ধেক পৃথিবীর ফ্লাইট প্ল্যান বদলে যাওয়া। এয়ারলাইনগুলোকে নতুন রুট বানাতে হয়, যাত্রীদের নতুন সময়সূচি মেনে নিতে হয়। একটি দেশের আকাশ, পুরো বিশ্বের ভ্রমণকে নাড়িয়ে দেয়।
আকাশের রাজনীতি
আমরা ভাবি আকাশ মানেই খোলা স্বাধীনতা। কিন্তু বাস্তবে আকাশও রাজনীতির অংশ। প্রতিটা দেশ নিজের আকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। কে ঢুকবে, কে ঢুকবে না— সেটা রাষ্ট্রই ঠিক করে। আকাশ মানে শুধু মেঘ না, আকাশ মানে কূটনীতি, নিরাপত্তা আর অর্থনীতি।
-B










