রুয়ান্ডার সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি : প্রশ্নের মুখে পর্যটনমন্ত্রী

মধ্য আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ মন্ত্রিসভায়। গত সোমবার (২৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিসভা খসড়া চুক্তি অনুমোদন দিলেও আরও যাচাই-বাছাই করতে বলেছে।
এক কোটি অধিবাসীর এ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। দেশটিতে বাংলাদেশিদের বসতিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশটির রাজধানী কিগালিতে ওষুধ ও পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও তা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের বিষয়।
আফ্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরিশাস ও লাটভিয়াও এ তালিকায় আছে। লিবিয়া ও মিসরের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে আগে থেকেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রুয়ান্ডার সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রশ্নের মুখে পড়েন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন।
মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ-রুয়ান্ডার মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তি নিয়ে মন্ত্রিসভায়ও অনেক কথা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় উড়োজাহাজ চলাচলসংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হলেও এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। এটি আমাদের কী কী উপকারে আসবে তা দেখে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
একটি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি করার আগে দেখা হয় সেই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে কি না। পর্যাপ্তসংখ্যক যাত্রী পাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে। সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবাসী বাংলাদেশি থাকলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব বিবেচনায় আফ্রিকার কোনো দেশে চুক্তি করতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাই এক নম্বরে থাকার কথা। কারণ দেশটিতে অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন। অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করেন।
বাংলাদেশে রুয়ান্ডা পরিচিত গণহত্যার জন্য। ১৯৯৪ সালে দেশটির সংখ্যালঘু তুতসি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংখ্যাগুরু হুতু গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে ঘটে বর্বরতম গণহত্যার ঘটনা। মাত্র ১০০ দিন চলা সেই গণহত্যায় প্রাণ গিয়েছিল আট লাখ মানুষের, যার চার ভাগের তিন ভাগই ছিল তুতসি জনগোষ্ঠীর।
২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে রুয়ান্ডায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় রুয়ান্ডা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ চায়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মধ্যে বিমান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুটি দেশের যেকোনো এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শ্রমবাজার, শিল্পসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল সহজ হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং নিয়ে চুক্তির খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে ৫২টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে বাংলাদেশি এয়ারলাইনস যাতায়াত করে মাত্র ১৩টি দেশে। ২৯টি বিদেশি এয়ারলাইনস যাত্রী এবং ১০টি এয়ারলাইনস বাংলাদেশে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৩ দেশের ২১টি শহরে ফ্লাইট চালায়। বিমান যেসব শহরে যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে কলকাতা, দিল্লি, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, কাঠমান্ডু, দুবাই, আবুধাবি, মাস্কাট, দোহা, কুয়েত, রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা, দাম্মাম, ম্যানচেস্টার, লন্ডন, হংকং, গুয়াংজু, শারজাহ এবং টরন্টো। বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা ১১টি গন্তব্যে যায়।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায়। এর মধ্যে ইরাকের ফ্লাই বাগদাদ, ইরানের মাহান এয়ার, মিসরের ইজিপ্ট এয়ার, ফ্রান্সের এয়ার ফ্রান্স রয়েছে। এর আগেই বৃটিশ এয়ারওয়েজ নতুন করে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ফ্লাই বাগদাদের স্টেশন ফ্যাসিলিটিজ পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির ইন্সপেক্টরদের সে দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। মাহান এয়ারের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলেও মহামারীর কারণে তা পিছিয়ে গেছে। এয়ার ফ্রান্স কোড শেয়ারের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। বৃটিশ এয়ারওয়েজের বিষয়টিও ঝুলে রয়েছে করোনা মহামারী এবং বৈশি^ক মন্দার কারণে।
বিদেশি এয়ারলাইনস থেকে সরকার কী পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পায় জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল চার্জ হিসেবে ৪৮৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
-B










