মার্চ থেকে বিমানের যাত্রীসেবা ডিজিটালাইড হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০২২ সালের মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী সেবা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইড করে দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন টিকেটিং, রিজার্ভেশন, চেকিং সবকিছু অনলাইনে হবে। এটা আমাদের প্রবাসীদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক খবর।’
বিমান প্রতিষ্ঠার পটভূমি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে যায়। তার নির্দেশে-পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন '৭২ সালে। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন। এই ভূ-খণ্ড একটি প্রদেশ ছিল পাকিস্তানের, তাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রে রূপ দেওয়া। যে যে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল, আইন করা প্রয়োজন ছিল, নিয়ম-নীতিমালা-বিধিমালা প্রয়োজন সবই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে করেন। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি সংবিধানও উপহার দেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বিমান প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যান।
আজ বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানকে ১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছিলাম যাতে করে তারা তাদের যেখানে যত ঋণ আছে সহজে তা মেটাতে পারে। সে ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছিলাম। প্রণোদনা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ এ সরকারে আসার পর আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিই কীভাবে বিমানকে আরও শক্তিশালী করতে পারি, সেবা বৃদ্ধি করতে পারি এবং মানুষের কাছে নিই। ঢাকা আমাদের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল। একটা স্বাধীন দেশে কেন একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকবে! তাই সিলেট এবং চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা তৈরি করি। সেখান থেকে সরাসরি যাতে বিদেশে যেতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছিলাম। বরিশাল, রাজশাহী, সৈয়দ বিমানবন্দর এগুলো সবই বিএনপি-জামায়াত ২০০১ এ সরকারে এসে বন্ধ করে দেয়। সেখানে কোনো যাত্রীসেবা ছিল না। সেগুলো আমরা আবার চালু করি। সেই সঙ্গে সঙ্গে বিমান বহরে নতুন নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করি। বর্তমানে ২১টি উড়োজাহাজ নিয়ে বিমান চলছে।
বিমানকে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল দিয়ে অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৭৭৩০০ ইআর উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার রিপ্লেসমেন্ট এবং বোয়িং ৭৮৭ এর সি চেক কার্যক্রম এবার আমরাই করতে শুরু করেছি। অর্থাৎ বিমানই করছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিমান সফলভাবে কাজগুলো করতে পারলো তাতে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। প্রযুক্তি শেখায় আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। যেন আমাদের আর অন্যের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। করোনা মহামারীর মধ্যেও এ কাজ বন্ধ হয়নি। কাজ অব্যাহত আছে। টার্মিনালটা হয়ে গেলে বিমানের দক্ষতা আরও বাড়বে। উন্নত প্রযুক্তির রাডার সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বিমানের পাশাপাশি, আমাদের দেশের আকাশসীমা দিয়ে অন্য দেশের যত উড়োজাহাজই যাক সকলের জন্যই এটা সুবিধাজনক হবে।’
-B










