ঢাকা-বরিশাল রুটে বন্ধ হলো বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট

দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিমান বন্দর বরিশালের সাথে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় বিমান ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেল।
শুক্রবার ঢাকা ও বরিশাল থেকে নিয়মিত শেষ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘এস ২-এ কে এফ’ নম্বরের ‘ড্যাস-৮ কিউ-৪০০’ উড়োজাহাজটিতে ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে ক্যাপ্টেন মো. সাইফুজ্জামান অয়ন নির্ধারিত সময়ের ২৬ মিনিট পরে সকাল ৮.৩৬ টায় বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ৯টার দিকে বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেন। সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রী নিয়ে ক্যাপ্টেন অয়ন ঢাকায় ফিরে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে গতবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার রজত জয়ন্তীতে বরিশাল সেক্টরে বিমান পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করার ১৫ মাস ১২ দিন পর নিয়মিত ফ্লাইটের রাশ টানল।
এতদিন বরিশাল সেক্টরে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান-এর ফ্লাইটে ভাল যাত্রী হলেও বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে ব্যবসায়িক সুবিধা দিতেই বিমান বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাস করল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি পদ্মা সেতু চালু হবার পরেও অন্য বেসরকারি এয়ারলাইন্স-এর তুলনায় বিমান-এর যাত্রী সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত জুলাই মাসেও ঢাকা-বরিশাল আকাশ পথে বেসরকারি নভো এয়ারে ফ্লাইট প্রতি গড় ২৫ শতাংশ যাত্রী হলেও ইউএস বাংলায় এয়ারে তা ছিল ৪৫ শতাংশ এবং বিমান-এ ৭৭ শতাংশ যাত্রী ভ্রমণ করে। অনুরূপভাবে বরিশাল-ঢাকা রুটেও এই হার ছিল। এ হিসেবে যাত্রী না পাবার অজুহাতে বিমান-এর নিয়মিত ফ্লাইট সপ্তাহে ৩ দিনে হ্রাস করার কোন যুক্তি নেই বলে দাবী করেছেন বরিশাল চেম্বার সভাপতিসহ বিভিন্ন সুধী সমাজ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, যাত্রী সংকটে নয়, প্রয়োজনীয় ক্রু’র অভাবে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট হ্রাস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিমান-এর বরিশাল সেলস অফিসের জেলা ব্যবস্থাপক কিছু বলতে রাজী হননি। কিন্তু ‘নিয়মিত ফ্লাইট সপ্তাহে ৩ দিনে হ্রাস করায় বিমান যাত্রী হারাবে’ বলে বিভিন্ন মহলের আশংকার সাথে তিনি দ্বিমত পোষণ করেননি তিনি।
উল্লেখ্য, বরিশাল সেক্টরে বেসরকারি ইউএস বাংলা বিমানের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশী ভাড়ায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করেছ। এমনকি বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধের প্রেক্ষিতে বেসরকারি এ উড়ান সংস্থাটি বরিশাল সেক্টরে প্রতিদিন ৩টি ফ্লাইট পরিচালনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
-B










