সৈকতের বর্জ্য দিয়ে প্রবাল দ্বীপে মাছের ম্যুরাল

পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৈকতে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা দিয়ে একটি কোরাল মাছ এবং একটি কচ্ছপের ম্যুরাল তৈরি করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদ।
আবর্জনাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক বোতল, চিপস ও অন্যান্য স্ন্যাক্স এর প্যাকেট, পলিথিন, ফেলে দেওয়া ছেঁড়া জাল, বস্তা ইত্যাদি।
সৈকতে ফেলে দেয়া প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বানানো ম্যুরালটি দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে।খণ্ড খণ্ড কাঠের টুকরোতে হাতুড়ির আঘাত আর শিল্পীর মননে তৈরি হয়েছে বিশাল আকৃতির এই মাছ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক, স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা যেন যত্রতত্র প্লাটিক ও অন্যান্য আবর্জনা না ফেলে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে এই ম্যুরাল দুটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কার্যক্রমের পরিকল্পনাকারী ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক, মৎস্য বিজ্ঞানী ড. কাজী আহসান হাবীব।
অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব বলেন, এই গবেষণায় দ্বীপের সৈকত ও পানির তলদেশ কী পরিমাণ ও কী ধরনের প্লাস্টিক এবং অন্যান্য আবর্জনা দ্বারা দূষিত হচ্ছে তা নিরূপণ করা হবে। এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং দ্বীপের সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তারও একটি রূপরেখা ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে। এ গবেষণার অর্থায়নে আছে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)।
ম্যুরালের উদ্যোক্তা, কেজিএফ এর নির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে দূষিত হচ্ছে মাছ। যার প্রভাব পড়ছে মানব শরীরেও। তাই গবেষণার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে এ প্রচেষ্টা। এছাড়ও একজন মানুষ তার গড় আয়ুষ্কালে কমপক্ষে ১৮ কেজি প্লাস্টিক বিভিন্নভাবে গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল ধারণ করা এই দ্বীপ সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড সংলগ্ন প্রবাল প্রতিবেশ এবং এর সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্যকে রক্ষার উদ্যোগ হিসাবে বাংলাদেশ সরকার এটিকে গত ৪ জানুয়ারি সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল বা মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া হিসাবে ঘোষণা করেছে।
এর আগে ১৯৯৯ সালে এই দ্বীপকে ইকোলজিকেলি ক্রিটিকেল এরিয়া বা প্রতিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।










