সেন্টমার্টিনে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

পর্যটকদের অন্যতম দর্শণীয় স্থান দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র সহ পরিবেশ প্রকৃতি মারাত্বভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
ইতোমধ্যে পরিবেশগত নানা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে নানা প্রাণী। পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপটিতে পর্যটনকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ হোটেল-গেস্ট হাউস। অতিরিক্ত পর্যটক এ দ্বীপের ভারসাম্যের জন্য হুমকি এবং জীববৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের উন্নয়নে ৫ দফা দাবী নিয়ে ২৩ জানুয়ারী মানববন্ধন করেছে কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন।
সেন্টমার্টিন সৈকতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারিকেল জিঞ্জিরায় নারিকেল গাছ নেই, আছে যত্রতত্র কংক্রিটের ঝঞ্জাল। দ্বীপটিতে প্রতিদিন অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকদের যাতায়াত, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, পরিবেশ দূষণ, পর্যটকদের অসচেতনতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে সেখানকার ইকো-সিস্টেম প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনে স্থায়ী জেটি নির্মাণ, স্থসয়ী সুরক্ষা বাঁধ, পুর্নাঙ্গ হাসপাতাল, পর্যটনের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বজ্য ব্যবস্থাপনার দাবী নিয়ে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাব সভাপতি আবু তাহের, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম, এডভোকেট আয়াছুর রহমান ও জাহেদ সরওয়ার সোহেল। মানববন্ধনে সাংবাদিক ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
দ্বীপের জীববৈচিত্র রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এবং সংবেদনশীল এ দ্বীপকে পরিবেশগত বির্পয় থেকে রক্ষার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্বচ্ছ পানি ও চারপাশ জুড়ে প্রবাল পাথর বেষ্টিত মনোলোভা পুরো দ্বীপটিই যেন নৈস্বর্গিক।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের পার্শবর্তী ৮.৩ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত এ দ্বীপ। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্রও। সেন্টমার্টিনে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৫ প্রজাতির ডলফিন, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির বাদুড় সহ নানা প্রজাতির বসবাস ছিল। এসব প্রাণীর অনেকটাই এখন বিলুপ্তির পথে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন সময়ে দূষণের কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রাণী।প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসরত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের অপরূপ ও মোহনীয় সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে শীত মৌসুমে দেশী-বিদেশী পর্যটকে মুখরিত থাকে। দিনদিন বৃদ্ধি পায় পর্যটকদের বিচরণ। দ্বীপে প্রতিদিন ৮টি জাহাজ ১০ হাজারের অধিক পর্যটক নিয়ে যাতায়ত করে।
প্রাকৃতিক প্রবাল দ্বারা আচ্ছাদিত এ দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপনে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ১১০টি আবাসিক হোটেল। পাশাপাশি খাবার হোটেল সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দ্বীপে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি সান রাইজ রিসোর্ট নামে দ্বিতল বিশিষ্ট একটি হোটেল উদ্বোধন করা হয়েছে। এই হোটেলের ভাড়াও রুম প্রতি ১৫ হাজার টাকা। তারকা মানের না হলেও এধরনের আরও বেশ কয়েকটি হোটেলে রুম ভাড়া নেওয়া হয় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এসব আবাসিক হোটেল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মানে প্রাকৃতিক পাথর উত্তোলনের পাশাপাশি, গাছ-পালা কেটে ফেলা হয়েছে। এসব হোটেলে নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
এসব বর্জ্যরে পাশাপাশি সমুদ্রের পানিতে পড়ছে পর্যটকদের ব্যবহৃত নানা প্লাষ্টিক সামগ্রী। এসব কারনে এ দ্বীপে পরিবেশগত নানা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে নানা প্রাণী। পর্যটনকে পুঁজি করে পরিবেশ সংকটাপন্ন দ্বীপটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে জন সমাগম। তাই অতিরিক্ত পর্যটক এ দ্বীপের ভারসাম্যের জন্য হুমকি এবং জীববৈচিত্র ধ্বংস করছে বলে পরিবেশ সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং দ্বীপের পরিবেশ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষা করা আমাদের খুবই দরকার। অতিরিক্ত পর্যটকদের নানা কর্মকান্ডের কারনে ইতোমধ্যে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ প্রকৃতির অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেছে। সেটা থেকে রক্ষার জন্য কত সংখ্যক পর্যটক প্রতিদিন যেতে পারবে, কিকি করা যাবে না, রাত্রী যাপন নিষিদ্ধ করা সহ জীববৈচিত্র বা পরিবেশ প্রকৃতির ক্ষতিকর সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব পর্যটন শিল্প তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি পরিবেশবাদীসহ স্থানিয়দের।
-B










