আদ্দিস আবাবাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে আদ্দিস আবাবাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, জাতিসংঘের ঐতিহ্যবাহী ‘আফ্রিকা অর্থনৈতিক কমিশন’ (UN-ECA) ভবনে UNESCO এবং UN-ECA—এর সাথে যৌথভাবে ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’পালন করেছে।
২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ, দূতাবাসের কর্মকর্তা—কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ এবং দোয়ার মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারবর্গ এবং বাংলাদেশের মাতৃভাষা রক্ষায় সকল শহিদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতাও পালন কর হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত পৃথক বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্মেষে ভাষা আন্দোলনের তৎপর্য তুলে ধরেন। এরপর, বাঙালির গৌরবময় ভাষা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে পূর্বাহ্নের অনুষ্ঠানমালার সমাপনী বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত।
দিবসের অপরাহ্নে শুরু হয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল আয়োজন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আদ্দিস আবাবা অবস্থিত জাতিসংঘের আফ্রিকা অর্থনৈতিক কমিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ইথিওপিয়া সরকারের সংস্কৃতি এবং খেলাধূলা বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন আদ্দিস আবাবায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিকবৃন্দ, ইউনেস্কোসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন অফিসের প্রধানগণ, ইথিওপিয়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিনিধিবর্গ এবং প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নাগরিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত। তিনি বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ও অন্যান্য ভাষা শহিদদের অমর কীর্তির কিয়দংশ শ্রদ্ধাভরে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে পেশ করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মনোনয়নের ইতিহাস ও ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইথিওপিয়া সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি এবং খেলাধূলা বিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে অভিনন্দিত করেন এবং মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরতে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। সাংস্কৃতিক পর্বে ইথিওপিয়ায় অবস্থিত ইথিওপিয়া, কাজাকাস্থান, ইরান, ঘানা, ভারত, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাষায় উrসাহী অংশগ্রহণকারীগণ নিজ নিজ দেশ ও সংস্কৃতির উপর রচিত সঙ্গীত, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
বাঙ্গালী কমিউনিটির পক্ষ থেকে একাধিক নাচ, গান ও কবিতা আবৃতি উপহার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ইথিওপিয়ান প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ভিন্ন মাত্রা প্রদান করে। স্থানীয় মিডিয়া শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান তাদের নিজস্ব মিডিয়ায় সম্প্রচার করে। পরিশেষে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার সহযোগে সান্ধ্যভোজ পরিবেশন করা হয়।
-B










