মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন : ঝুঁকিতে বরিশাল বিমানবন্দর

বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়েটি বিমান অবতরণের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ একটি টিম।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুকেশ কুমার সরকারের (পরিকল্পনা) নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিনিধিদল আরও জানায়, সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়তে যাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর। ইতিমধ্যে রানওয়ের উত্তরপ্রান্তে ৭৫ মিটারের ভেতরে চলে এসেছে নদী। নদী ভাঙনের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে বিমানবন্দরে বিমানের অবতরণ ও উড্ডয়ন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
সুকেশ কুমার বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, 'এই পরিস্থিতির মধ্যে, যদি দ্রুত রানওয়ে মেরামত করা না হয় তবে বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের সময় যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে যে, বন্দরের রানওয়ের অ্যাফল্ট সারফেস ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। যে কোনো সময় রানওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই দ্রুত এটি মেরামতের করা জরুরি।
সম্প্রতি পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রথমবারের মতো অভিজ্ঞতা নিতে বরিশাল আসেন ওই প্রতিনিধি দল। প্রতিবেদনে তারা জানান, কেবল নদী ভাঙনই নয়, টার্মিনাল ভবনের নাজুক দশা, অরক্ষিত রানওয়ে, অ্যাপ্রোনের জটিলতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাফল্ট সারফেসের উল্লেখসহ বিমানবন্দরটি বিভিন্ন সমস্যাগ্রস্ত রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের ভাঙন রোধ ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবেলায় তদন্ত কমিটির তিন দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, নদীভাঙনের হাত থেকে বিমানবন্দরকে রক্ষার জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যেসব স্থানে নিরাপত্তা দেয়াল নেই, সেগুলো নির্মাণ এবং রানওয়েসহ দ্রুত ভবন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে ‘প্লান্ট প্রোটেকশন’ বন্দর হিসেবে দুই হাজার ফুট রানওয়ে নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ সালে এটিকে বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৫ সালে ঢাকা-বরিশাল রুটে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই থেকে দিনের বেলা ঢাকা-বরিশাল রুটে বাণিজ্যিক বিমানের চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট।।
১৯৯৫ সালে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও এখনো আক্ষরিক অর্থে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যে সব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার ন্যূনতম এখানে গড়ে ওঠেনি। চালু হওয়ার ২৭ বছর পরও নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নয়নের বিষয়টিও উপেক্ষিত। এখানে রানওয়ে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে সন্ধ্যার আগেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিকেলের দিকে কোনো ফ্লাইট বিলম্বিত হলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক সময়ই পাইলটরা চরম ঝুঁকি নিয়ে রানওয়ে থেকে ফ্লাইট টেক অফ করাতে বাধ্য হন। আবার রানওয়ের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত মনিটর নেই।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এই বিমানবন্দরে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী রানওয়ে নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে ধরনের উড়োজাহাজ (ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেল) চলাচল করে তাতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মিটার এবং প্রস্থ কমপক্ষে ৪৫ মিটার। কিন্তু এই বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকলেও প্রস্থ মাত্র ৩০ মিটার-যা প্রয়োজনের তুলনায় ১৫ মিটার কম। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দুটি রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ার ফাইটিং (আরএফএফ) যান থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই।










