চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন কমেছে


ঢাকাঃ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিমানবন্দরটি দিয়ে ১ কোটি ৭২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছে।
তবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে যাত্রী কমলেও বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সার্বিক চিত্র ইতিবাচক রয়েছে।
এক বিবৃতিতে চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ (সিএজি) এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় ট্রানজিট হাবটি দিয়ে মোট যাত্রী পরিবহন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূলত বিমান জ্বালানির চড়া দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এটি আকাশসেবা খাতের ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাঙ্গি বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণসহ মোট উড়োজাহাজ চলাচল ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯২ হাজার ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে। তবে বছরের প্রথমার্ধে মোট উড়োজাহাজ চলাচল ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের প্রায় সমান।
এছাড়া জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে চাঙ্গি বিমানবন্দর ব্যবহারের শীর্ষে থাকা পাঁচটি দেশ হলো চীন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারত। এ সময় ভিয়েতনাম ও চীনের বাজার থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছে বিমানবন্দরটি। ভিয়েতনাম থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫ ও চীন থেকে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। পাশাপাশি জাপানের বাজারে ৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে চাঙ্গি বিমানবন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ততম পাঁচটি আকাশপথ ছিল কুয়ালালামপুর, জাকার্তা, ব্যাংকক, ডেনপাসার (বালি) ও টোকিও। তবে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রুটগুলোয় যাত্রী যাতায়াত ৫ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় যাত্রী পরিবহন ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
এ প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে সাংহাই, তাইপে ও টোকিও রুট। একই সঙ্গে ইউরোপ ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রুটে যাত্রী যাতায়াত যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭ ও ৩ শতাংশ বেড়েছে।
এয়ারলাইনসগুলো সেবা বাড়াতে এসব রুটে ফ্লাইট সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করেছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
এদিকে যাত্রী পরিবহন কিছুটা মন্থর হলেও পণ্য বা কার্গো পরিবহনে চাঙ্গি বিমানবন্দর বেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিমানবন্দরে ৫ লাখ ৬৭ হাজার টন আকাশপণ্য পরিবাহিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কিত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের শক্তিশালী চালানের কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ সময় কার্গো পরিবহনে চাঙ্গির শীর্ষ পাঁচটি বাজার ছিল চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও ভারত।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা লিম চিং কিয়াত জানান, মার্চের পর থেকে উড়োজাহাজ জ্বালানির দাম কিছুটা কমে এসেছে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু করতে এয়ারলাইনস অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।





