জাকার্তা বিমানবন্দরে ২শতাধিক ফ্লাইট বাতিল


ঢাকাঃ ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নির্গত প্রকাণ্ড ছাই ও ধোঁয়ার মেঘ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ২ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।
একই সাথে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় আক্রান্ত অঞ্চলের একাধিক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাগরে মাছ ধরা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জাকার্তার ‘সোকোর্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ায় ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
এর আগে স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লাইট স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের কারণে অন্তত ২০৯টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সূচি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতে ভয়াবহ ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সুমাত্রা অঞ্চল ও বানতেন প্রদেশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং জাভা অংশে প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের আস্তরণ দেখা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থার মুখপাত্র বার্তন প্যানজাইতান জানান, ছাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করা, বাইরের কাজকর্ম কমানো এবং খাবার পানির উৎস ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছৈ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বায়ুমণ্ডলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা চোখে তীব্র জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন। ফলে বেশ কয়েকটি স্কুল পাঠদান বাতিল করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, সমুদ্র উত্তাল ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
যদিও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই, তবুও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাওয়ের অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রায় শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছিল।
‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামটির অর্থ ‘ক্রাকোতাওয়ের সন্তান’। ১৮৮৩ সালে এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে যায় এবং ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সুনামির সৃষ্টি হয়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।







